আকাশবার্তা ডেস্ক :
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এই রিপোর্ট দাখিল করা হয়। এখন পর্যন্ত রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে এ ধরনের ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে কমিটি।
তবে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর কথোপকথনের বহুল আলোচিত ফোন রেকর্ড পায়নি তদন্ত কমিটি। তাই বিষয়টিকে ‘সীমাবদ্ধতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে ২১ পৃষ্ঠার ছবি ও ৫৮৬ পৃষ্ঠার বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য রয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘আমরা ঘটনার উৎস সম্পর্কে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। এ ধরনের ঘটনার অবতারণা যেন আর না হয়, সে ব্যাপারেও প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।’
ব্রিফিংয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য লে. কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ বলেন, ‘মেজর (অব) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ঘটনা সবার বিবেককে ব্যথিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও পেশাদারিত্ব, চেইন অব কমান্ড মেনে চলা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘আইনের রক্ষক হয়ে আমরা যেন ভক্ষকে পরিণত না হই। সরকার অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তা যেন অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি অস্ত্র যেন আমাদের মানব থেকে দানবে পরিণত না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ তৈরি। এর সঙ্গে একটি সুপারিশমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে। দুটিই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।
গত ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ হত্যার ঘটনায় গত ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এতে সদস্য করা হয় কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন ও সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধিকে।
পর দিন তদন্ত কমিটি ৪ সদস্য বিশিষ্ট করে পুনর্গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে।
আর সদস্য করা হয় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. জাকির হোসেন এবং সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডারের প্রতিনিধি লে. কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদকে।
গত ৩ আগস্ট তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করেছিল। এ সময় কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সরকার ৭ কর্মদিবস সময় নির্ধারণ করে দেয়। এরপরেও তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়।
সূত্র : দৈনিক আমার সংবাদ।