আকাশবার্তা ডেস্ক :
প্রাণঘাতী করেনোভাইরাসের তাণ্ডবে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সংসদ টিভি ও রেডিওতে পাঠদান চলছে। সরকারি এই দুই গণমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকলেও এতে নানা ধরনের অনুষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এবার এসব সমস্যা স্থায়ী সমাধানের জন্য শিক্ষা টিভি চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ টিভির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচার করা হবে। এজন্য বিটিভির মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষা টিভি চালুর বিষয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবও সভায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিক্ষা টিভি চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ জন্য বিটিভির মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসা অধিদফতরের ডিজিদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার।
এই প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, আমরা মিটিং করে একটি প্রস্তাব দিয়েছি। তাতে আমাদের চাহিদা কি? সারা দিনে আমরা কয় ঘণ্টা কন্টেন্ট দিব। সারা বছর কি ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে তুলে ধরেছি।
প্রাথমিকের পক্ষে আমি, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি ডিজিরা সবাই মিলে চাহিদা দিয়েছি। পরে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আরেকটি সভা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সে সভায় অংশ নিতে পারিনি। বিশেষজ্ঞরা ঠিক করছেন শিক্ষা টিভি করতে গেলে কী কী দরকার হবে।
সরকার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, বিটিভির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে শিক্ষা টিভি। এ টিভির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রাথমিক পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, ভালো শিক্ষকদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলে না পাঠিয়ে বরং ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ক্লাস টেলিভিশনে প্রচার করতে একটি শিক্ষা টিভি করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
এর আগে, করোনাভাইরাসে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য নামমাত্র মূল্যে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ দেয়ার ঘোষণা দেয় সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড।