যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি ইনডোর স্টেডিয়ামে মার্কিন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে বিস্ফোরণে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে কনসার্ট শেষ হওয়ার পরপরই বিস্ফোরণের ওই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ।
আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছেন, এ ঘটনার পেছনে দুজন আত্মঘাতী হামলাকারী রয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। সন্ত্রাসী হামলার সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হলে ম্যানচেস্টারের এ ঘটনা হবে ২০০৫ সালে লন্ডনে চার আত্মঘাতী হামলায় ৫২ জন নিহত হওয়ার পর সবচেয়ে বড় ধরনের হামলার ঘটনা।
যুক্তরাজ্যের নির্বাচনের আড়াই সপ্তাহ আগে বিস্ফোরণের এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ভোটের প্রচার স্থগিত রেখে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত কোবরা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তিনি। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনও টুইট করে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। ম্যানচেস্টার অ্যারেনায় আরিয়ানা গ্রান্ডের পরিবেশনা শেষে দর্শক-শ্রোতারা যখন বের হতে শুরু করেছেন, তখনই প্রবেশপথে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে।
কনসার্ট দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে অনেক শিশুও ছিল। বিস্ফোরণের পর সেখানে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। অ্যান্ডি হোলি নামে একজন জানান, তিনি কনসার্ট শেষে স্ত্রী আর মেয়েকে নেওয়ার জন্য অ্যারেনার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় হঠাৎ বিস্ফোরণের ধাক্কায় তিনি প্রায় ৩০ ফুট দূরে ছিটকে পড়নে।
“উঠে দাঁড়িয়ে দেখি, অনেকে মেঝেতে পড়ে আছে। তখন আমার প্রথম চিন্তা ছিল যেভাবে হোক ভেতরে ঢুকে আমার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করতে হবে। “কিন্তু ভেতরে তাদের খুঁজে না পেয়ে বাইরে এসে পুলিশ আর দমকল কর্মীদের সঙ্গে মিলে হতাহতদের মধ্যে আমার স্ত্রী আর মেয়েকে খুঁজতে শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমি তাদের অক্ষত অবস্থাতেই খুঁজে পাই।”
এমা জনসন নামের আরেকজন জানান, ১৫ ও ১৭ বছর বয়সী দুই মেয়েকে কনসার্ট শেষে নিতে অ্যারেনায় এসেছিলেন তিনি ও তার স্বামী। তিনি বলেন, প্রবেশ পথের হলঘরটিতে ওই বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেটি বোমা ছিল বলেই তার দৃঢ় বিশ্বাস।
“আমরা সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ কাঁচগুলো বিস্ফোরিত হল।… পুরো ভবন কেঁপে উঠল। বিস্ফোরণের শব্দ পেলাম, তারপর এল আগুনের হল্কা। অনেক মানুষ পড়েছিল আশপাশে।” খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। ওই স্টেডিয়ামের কাছে ভিক্টোরিয়া স্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন এমন স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসির একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, আহতদের ক্ষত ‘বোমার শার্পনেলের আঘাতের মতো’। সূত্র : বিবিসি বাংলা