আসছে রমজান মাসে বিদ্যুতের সংকট হবে কিনা, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু জানান, ‘আমি বলতে পারি একটা ভালো পরিস্থিতির দিকে যাবে। তবে সার্বিক উন্নতির জন্য ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, ট্রান্সমিশনে (সঞ্চালন লাইন) এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে, কাজ চলছে। চীন সরকারের কাছ থেকে আমাদের যে অর্থ পাওয়ার কথা সেগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বৃহৎ প্রকল্পগুলো এখনও আসেনি, সেগুলো আসতে সময় লাগছে।
আমি মনে করি দেশবাসী যারা আছেন, যারা গ্রাহক আছেন, সকলে আমাদের অবস্থাটা বুঝতে পারবেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যদি ডিমান্ড থাকে ১২ হাজার মেগাওয়াট তবে ক্যাপাসিটি হতে হবে এখন ২০ হাজার মেগাওয়াট। আমরা দেখছি বৃষ্টি হলে চাহিদা ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেমে যাচ্ছে। গরম পড়লে বেড়ে হচ্ছে ১২ হাজার মেগাওয়াট।
জানা গেছে, আশুগঞ্জে বিদ্যুৎ সঞ্চালন আইন ভেঙ্গে পড়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সঞ্চালন লাইন মেরামত করতে ৬-৭ মাস লাগবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে যে কয়টা পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে সেগুলোর কাজ আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে শুরু হবে। এর মাধ্যমে চাহিদার অনেকটাই মিটে যাবে।
জেনারেশন পিডিবির সদস্য আবুল বাশার খান বলেন, গতকাল বিকাল ৪টায় মোট উৎপাদন ছিল ৭ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট। তবে তিনি সারা দেশে কি পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে তা জানাতে পারেননি। কিছু দিন যাবৎ কেন লোডশেডিং হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামে কেন বেশি লোডশেডিং হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে বিবেচনা করে আমরা লোডশেডিং করে থাকি। ঢাকায় যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকারখানা রয়েছে এবং ভিআইপি লোক বাস করে সে কারণে রাজধানীর তুলনায় গ্রামে লোডশেডিং বেশি।
গরম বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে লোডশেডিং ফলে ভোগান্তির শেষ নেই নগরবাসীর। কথা হয় নিউমার্কেটের বাসিন্দা আলী আজগরের সাথে। তিনি জানান, শীতের সমস্যা না হলেও গরম বৃদ্ধির সাথে সাথে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ছেলেমেয়ে ঠিকভাবে পড়াশুনা করতে পারছে না। আর গরমে ঠিকভাবে রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ বলেন, একদিকে গরম অন্যদিকে লোডশেডিং জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। লেখাপড়া ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে ঘুমাতে পারি না। তবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এবারের পুরো রমজানজুড়ে গরম থাকবে। এতে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর যে অবস্থা তাতে রমজানে সরকারের টার্গেট অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াট করা সম্ভব হবে না। এতে রোজাদারদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।
ইফতারি, তারাবি ও সেহেরির সময় চাহিদা বেড়ে গেলে গ্রামের লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করবে। ডিপিডিসি ও ডেসকোকে ঢাকায়ও বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং করতে হবে। তাছাড়া ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন সংস্কার না হওয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ লাইনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। দুর্বল বিতরণ লাইনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেই বিভিন্ন স্থান লাইন ও ট্রান্সফরমার জ্বলে যাবে। এতে মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।