আকাশবার্তা ডেস্ক :
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরী পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার একটি হোটেলে সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি এবং পরামর্শক কমিটির প্রধান এ সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, আগামীতে সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ এর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যুদ্ধ সামনে আছে। করোনাভাইরাসের টিকা কবে আসবে তা কেউ জানে না। সুতরাং সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
তবে আগামীতে সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ এর জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, যুদ্ধ সামনে আছে। সরকার নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় এখন সংক্রমণের হার এবং মৃত্যু দুটোই কমেছে। তবে এখনও শৈথিল্য দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। নিজেদের সুরক্ষিত রেখে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে, সেবা বন্ধ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, শুরুতে পৃথিবীর অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশও হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল। তবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। সক্ষমতা অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করতে গিয়ে গত সাত মাস স্বাস্থ্য বিভাগকে নিয়ে অনেকে অনেক নেতিবাচক কথা বলেছে। কিন্তু কেউ মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। তারা ঘরে বসে নিরাপদ দূরত্বে থেকে সমালোচনা করেছে। কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি। কিন্তু আমাদের চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সেনাবাহিনী মাঠে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। এজন্যই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিকা সংগ্রহে বেশকিছু অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও জানেন। উনারও একটা নির্দেশনা আছে আমরা সেইভাবে কাজ করছি। আপনারা অল্পকিছু দিনের মধ্যেই জানতে পারবেন আমরা কোন ভ্যাকসিন নিতে পারব। আমরা ওই ভ্যাকসিন নেব যেটা তাড়াতাড়ি এবং সুলভ মূল্যে পাওয়া যাবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন-বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএ আজিজ, শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক এমএ আজিজ এমপি, সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক এএইচএম তৌহিদুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ডা. এসএম কামরুল চৌধুরী দেন প্রমুখ।