আকাশবার্তা ডেস্ক :
৬ বছর আগে সংগঠিত স্কুলছাত্র শিমুল হত্যাকাণ্ডের চার্জসীটে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ স্থানীয় রাজনীতি। চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা বিষোদগার ও কাদা ছোড়াছুড়ি।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় চেয়ারম্যান নুরুল আমিন অভিযোগ করে বলছেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাজু ভূঁইয়াকে এই মামলায় ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এর জন্য তিনি চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলুকে দায়ী করেন।
অপরদিকে কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু দাবি করেছেন- তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া ২০১৪ সালে বিএনপির রাজনীতি করতেন এবং তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে শিমুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত দাবি করেন তিনি।

এ নিয়ে রোববার (৮ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে মহাসড়কের পাশে পৃথকভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এতে চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীসহ পুরো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করে। তবে দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান এবং মানববন্ধনকে ঘিরে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে কঠোর অবস্থান নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত রিজার্ভ পুলিশ মোতায়েন করে জেলা পুলিশ।
জানা যায়, ২০১৪ সালে ২১ এপ্রিল রাতে বিএনপি’র স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও নাছির বাহিনীর মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চন্দ্রগঞ্জের পশ্চিম লতিফপুর ও দেওপাড়া গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় নাছির বাহিনীর সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায় জিসান বাহিনী। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন ৮ম শ্রেণির ছাত্র ও ছাত্রলীগনেতা কাজী বাবলুর ভাগিনা শিশুছাত্র রবিউল আউয়াল শিমুল। পরে এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন বাবলু।
মামলাটি লক্ষ্মীপুর থানা পুলিশ ও জেলা ডিবি পুলিশ পৃথক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করে। তবে জেলা ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি আবুল কালাম আজাদ হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন আদালতে। এরপর বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যুরো ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) নোয়াখালীকে মামলাটির তদন্তভার দেয় আদালত। পিবিআই ওই মামলার তদন্ত শেষে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ৪ নভেম্বর ওই প্রতিবেদনের আলোকে মামলার চার্জসীটভূক্ত ৪ নম্বর আসামি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের বর্তমান সভাপতি তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে র্যাব-১১এর লক্ষ্মীপুর ইউনিট গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার ও তাকে শিমুল হত্যা মামলায় অন্তর্ভূক্ত করার পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে চন্দ্রগঞ্জে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনসহ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইমতিয়াজ, তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে নির্দোষ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে দাবি করে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো মূহুর্তে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছেন তারা।
সাধারণ মানুষ বলছেন, সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে খ্যাত লক্ষ্মীপুর সদর পূর্বাঞ্চলের চন্দ্রগঞ্জ আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এতে আবারো প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ প্রাণহাণির আশঙ্কা করছেন তারা। এ ব্যাপারে যে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্টদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের।