
মো. আলী হোসেন :
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধিন গুরুত্বর আহত লক্ষ্মীপুর পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আবু তাহের সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসার প্রতিক্ষায় রয়েছেন লাখো মানুষ। আধুনিক পৌরসভার রূপকার আবু তাহেরের জন্য রয়েছে অবহেলিত মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা। যিনি স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠায় নিজের মনে লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে যিনি নিরলস দায়িত্ব পালন করেন তিনি হলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু তাহের।
রাজনীতির ময়দানে যিনি মানুষের আস্থা অর্জনে একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত। দলীয় পদের বাইরেও যার এতটুকু মূল্যায়ন কমেনি নেতাকর্মীদের মধ্যে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের জন্য রয়েছে হাজার হাজার নেতাকর্মীর অফুরন্ত ভালোবাসা। শুধু নেতাকর্মীদের মধ্যে নয়, পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে যিনি দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনারও একজন আস্থাভাজন। তাইতো আহত পৌর মেয়রকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জননেতা ওবায়দুল কাদের। এ সময় জননেতা ওবায়দুল কাদের মেয়র আবু তাহেরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তাঁর প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনার সমবেদনার কথাও জানান ওবায়দুল কাদের।
গত ১৬ মে মঙ্গলবার বিকেলে পৌরসভার চকবাজারের ব্রীজ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে যান মেয়র আবু তাহের। এ সময় অসাবধানতা বশত পা পিচলে ব্রীজের নীচে পড়ে যান তিনি। এতে কোমরে গুরুত্বর জখমসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন মেয়র। দ্রুত তাঁকে ঢাকার গ্রীণলাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসার পর গত ২৪ মে বুধবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়র আবু তাহেরকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে মেয়রের সাথে রয়েছেন, তাঁর সহধর্মীনি বেগম নাজমা তাহের ও মেজো ছেলে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান একেএম সালাহ্ উদ্দিন টিপু।
২০১৬ সালের ২৫ মে’ অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আবু তাহের টানা দ্বিতীয় মেয়াদে এবং তৃতীয়বারের মত জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে (নৌকা প্রতীকে) বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ মে) দ্বিতীয় মেয়াদের একবছর পূর্ণ হলো। বিগত ৬ বছরে মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনেক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। একই সাথে তিনি পৌরবাসীর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনেও সক্ষম হয়েছেন। মানুষের মধ্যে এ বিশ্বাস জন্মেছে আধুনিক পৌরসভা গড়তে আবু তাহেরের বিকল্প নেই। যিনি বিগত ৬ বছরে পৌরসভায় প্রায় সোয়া ৩’শ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।
আলেম ওলামাদের মধ্যেও মেয়র আবু তাহেরের প্রতি অগাধ ভালোবাসা দেখা গেছে। তিনি আহত হওয়ার খবর শুনে পৌরসভার বিভিন্ন মসজিদে এবং জেলার বিভিন্ন মসজিদে সুস্থ্যতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
লক্ষ্মীপুরের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টুমচর ইসলামীয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা হারুন আল মাদানী বলেন, আমি আল্লাহর কাছে মেয়র আবু তাহেরের জন্য দোয়া করেছি। আল্লাহ যেন উনাকে সুস্থ্যতা দান করেন এবং ফিরে এসে তিনি যেন তাঁর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সমাপ্ত করার তৌফিক দান করেন। তিনি বলেন, আমার মাধ্যমে উনার জন্য কয়েকবার দোয়া করা হয়েছে। আজকেও (শুক্রবার) জুম্মার পর দোয়া করা হবে।
লক্ষ্মীপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাইন উদ্দিন পাঠান বলেন, আধুনিক পৌরসভা গড়ার দক্ষ কারিগর, নগর পরিকল্পনাবিদ মেয়র আবু তাহের দুর্ঘটনায় আজ অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন। তাঁর অনুপস্থিতি পৌরসভায় শূণ্যতা বিরাজ করছে। আমি তাঁর আশু সুস্থ্যতা কামনা করছি। তিনি যেন ফিরে এসে পৌরবাসীর সেবা করতে পারেন।