আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে; প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাঁজোয়া যান ও জলকামানের গাড়ি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৮ আসনে উপ নির্বাচন চলার মধ্যে কয়েকটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরই বিএনপি অফিসের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোটকেন্দ্র ‘দখল’, ধানের শীষের এজেন্টদের ‘বের করে দেওয়া’ এবং সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্র ‘ঢুকতে না দেওয়ার’ অভিযোগ করেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ মিছিল বের করে নেতা-কর্মীরা। মিছিলের পর তারা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
এরই মধ্যে নয়া পল্টনে আনন্দ ভবনের কাছে আয়কর কার্যালয়ে সামনে আয়কর বিভাগের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে শাহবাগ, গুলিস্থান গোলাপশাহ মাজার, মতিঝিল, সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেইটের সামনে প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় আরও পাঁচটি বাসে আগুন দেওয়া হয় বলে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিকে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর পুলিশ নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে নেতা-কর্মীরা অলি-গলিতে সরে যান। এরপর পুলিশ রাস্তার ওপর লাইন ধরে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে।
বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ দপ্তর সস্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের ভেতরেই আছেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন দিকে বাসে আগুন দেয়া হচ্ছে। তাই পল্টনে বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
এদিন দুপুরের দিকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ও ভেতর থেকে অন্তত ১০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্রটি বলছে, ১০ জনেরও বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
বিএনপি সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান সর্দার জানিয়েছেন, রাজধানীর সাতটি স্থানে বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার মাশুকুর রহমানসহ (ফরিদপুর বিভাগীয়) দলটির ১০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও তার স্ত্রী বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানার বাসায় অভিযান চালিয়েছে র্যাব। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরী পাড়ায় অবস্থিত খোকন-শিরিনের বাসায় এ অভিযান চালানো হয়।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, শিরিন আপা দুপুরে আমাকে অভিযানের বিষয়ে জানিয়েছেন।
মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কেউ অপরাধী না হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।