আকাশবার্তা ডেস্ক :
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় এমপি-মন্ত্রী এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের বলয়ভিত্তিক রাজনীতি ভাঙা এবং মনোনয়নবাণিজ্য ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
নির্বাচনে দলের দুর্দিনের ত্যাগী, পরিশ্রমী, পরীক্ষিত এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের দলীয় প্রার্থী করতে মনোনয়নপত্র অনেকটাই উন্মুক্ত করেছে ক্ষমতাসীন দলটি।
সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের পাঠানো তালিকায় নাম না থাকা মনোনয়নপত্র ক্রয়ে আগ্রহীদের দলের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের সুপারিশ আনতে হবে। এর আগে তৃণমূল আওয়ামী লীগের পাঠানো তিন সদস্যের তালিকার বাইরে কেউ মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে পারেননি।
সূত্রে জানা যায়, পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনির্ধারিত বৈঠক করেন দলটির কেন্দ্রীয় এবং বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। অনির্ধারিত ওই বৈঠকে উঠে আসে আসন্ন পৌর নির্বাচনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
বিশেষ করে, তৃণমূল সংগঠনের রেজ্যুলেশনে মনোনয়নপ্রত্যাশীর নাম দিতে টাকার বাণিজ্য, এমপিদের ইন্ধনে অজনপ্রিয় প্রার্থীর নাম পাঠানো, জেলা-উপজেলা-পৌর আওয়ামী লীগের নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতা, তৃণমূলের সিনিয়র নেতারা সিন্ডিকেট করে প্রার্থী বাছাই করার বিষয়গুলো।
ইতোমধ্যে বঞ্চিত অনেক নেতাই বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন বলেও বৈঠকে উঠে আসে। বঞ্চিতদের অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে মন্ত্রী-এমপি এবং তৃণমূলের সিনিয়র নেতারা নিজ নিজ সিন্ডিকেটের বাইরে যাচ্ছেন না। তারা সুকৌশলে পিছিয়ে রাখছেন তৃণমূলের নিবেদিনপ্রাণ পরীক্ষিত নেতাদের।
একই সাথে প্রথম ধাপের নির্বাচনের বিদ্রোহী দাঁড়ানোর কারণগুলোও চিহ্নিত করা হয় বলে বৈঠকে থাকা একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সে কারণেই তৃণমূল সংগঠনের রেজ্যুলেশনে নাম না থাকা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য কিছুটা উন্মুক্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই বৈঠকের পরের দিন গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসেন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা।
এসময় তিনি মনোনয়ন বিক্রির সাথে যুক্ত নেতাদের বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা শিথিল হয়েছি। তৃণমূল সংগঠনের রেজ্যুলেশন ছাড়া কেউ যদি বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতার সুপারিশে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে আসেন তাদের মনোনয়ন ফরম দিতে নির্দেশ দেন তিনি।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, ‘মনোনয়ন উন্মুক্ত করা হয়েছে, বিষয়টি এমন নয়, মনোনয়নের জন্য আমাদের তৃণমূল যে তালিকা পাঠায়, তার বাইরে যদি কেউ দলীয় মনোনয়ন ফরম নিতে আগ্রহী থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের সুপারিশ থাকতে হবে, কিংবা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সিনিয়র নেতাদের সুপারিশ থাকতে হবে। তাহলে তৃণমূলের পাঠানো তালিকার বাইরে থাকা আগ্রহী নেতারা মনোনয়ন ফরম নিতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ও সিনিয়র নেতাদের সুপারিশে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করা নেতাদের বিষয়ে মনোনয়ন বোর্ডসভায় আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হবে।’ আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, পৌরসভা নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে প্রথম থেকেই হার্ডলাইনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে বিশৃঙ্খলামুক্ত রেখে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে বিতর্কমুক্ত, ক্লিন ইমেজ এবং দলের দুর্দিনের নেতাদের মনোনয়ন দিতে চান তিনি।
একই সাথে গত পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিচ্ছেন না বঙ্গবন্ধুকন্যা। নেত্রীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা। পৌর নির্বাচন মনোনয়নপত্র ক্রয়ে আগ্রহী নেতাদের তৃণমূল সংগঠনের রেজ্যুলেশন ছাড়া কাউকে মনোনয়ন ফরম দিচ্ছেন না তারা। তৃণমূলের ওই রেজ্যুলেশন থেকে বাদ পড়া নেতাদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রেজ্যুলেশন থেকে বঞ্চিত নেতারা ইচ্ছে করলেই দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।
তবে সে ক্ষেত্রে আগ্রহীদের দলের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের সুপারিশ আনতে হবে। আর বিশেষ বিবেচনায় সুপারিশকৃত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিষয়ে বোর্ডসভায় আলাদাভাবে আলোচনাও হবে বলছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমরা চাই দলের পরীক্ষিত এবং জনপ্রিয় নেতরাই দলীয় মনোনয়ন পাক। কিন্তু তৃণমূলে কিছু কিছু এমপি এবং দায়িত্বশীল নেতা একাই একাধিক নাম পাঠাচ্ছেন। বাদ দিচ্ছেন ত্যাগী, পরিশ্রমী এবং দুর্দিনের মাঠের আন্দোলন সংগ্রামের নেতাদের। এ জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’