আকাশবার্তা ডেস্ক :
করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরো বাড়তে পারে। ছুটি কয়দিন বাড়ানো হবে সে বিষয়ে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, দেশে এখনও মহামারির প্রকোপ না কমায় ছুটি বাড়ানো হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলেও তা কেবল এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা হবে।
শনিবার (১২ ) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে রাতে বা রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘোষণা আসতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি চলমান ছুটি আরও বাড়াতে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ কারণে আগামী ১৫ বা ৩০ দিন নতুন করে ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলে তা পাস করা হবে।
জানা গেছে, নতুন করে ছুটি বাড়ানোর সময়গুলোতে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে সংসদ টিভি, রেডিও, অনলাইনে ক্লাস চলমান থাকবে। করোনা সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সময় নিজেদের এবং অন্যদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করতে হবে। তবে কওমি মাদরাসায় যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে গাইডলাইন প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। এ গাইডলাইন অনুসরণ করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এরপর ২৮ জানুয়ারি সে প্রস্তুতি মনিটরিং বা পরিবীক্ষণ করার নির্দেশনা দেয়া হয় মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের।
বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর সেই ছুটি ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছিল।
করোনা মহামারির কারণে এ বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী, অষ্টমের সমাপনী ছাড়াও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হলেও প্রাথমিকের অন্য শ্রেণিগুলোয় পরীক্ষা ছাড়া পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
আর মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা স্তরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।