আকাশবার্তা ডেস্ক :
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে কটূক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা নোয়াগাও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
গেলো সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শানে রিসালত সম্মেলনে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক সহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসার বিরোধীতা করে কঠোর সমালোচনার জেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ঝুমন দাশ আপন নামের এক হিন্দু যুবক।
স্ট্যাটাসের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। তারই সুত্র ধরে গেলো বুধবারে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাও গ্রামে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায় হেফাজত পন্থীরা। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করেছে পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল বাদি হয়ে ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে ৭০০ জনকে অজ্ঞাত করে এবং শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম বাদি হয়ে অজ্ঞাত নামা ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
এ ঘটনায় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে এই রিপোর্ট পর্যন্ত ২২ জনকে আটক করে শাল্লা থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন ভুইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য নোয়াগাও গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে এবং সাদা পোশাকে র্যাব-ডিবি’র সদস্যরা সর্বক্ষন টহল দিচ্ছে।
গ্রেপ্তার আতংকে বর্তমানে শাল্লা উপজেলার আশপাশের কয়েকটি গ্রাম পুরুষ শূণ্য রয়েছে। তবে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হামলাকারীদের দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ শহরে বিভিন্ন হিন্দু কমিউনিটি সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করেছে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে অনুদান প্রদান করেন এবং সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় যে বা যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
জাতির জনকের শততম জন্মদিন উপলক্ষে শাল্লার নোয়াগাও গ্রামের হিন্দু কমিউনিটির ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর মেনে নেয়া যায় না। শান্ত সম্প্রতির বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে দেয়া হবে না।
সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন ভুইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সুনামগঞ্জের শাল্লা নোয়াগাও হিন্দু গ্রামের হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
একটি মামলা করেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও অপর একটি মামলা করেছে শাল্লা থানার পুলিশ বাদি হয়ে।
এ ঘটনায় পুলিশ ২২ জনকে আটক করেছে। বাকীদের গ্রেপ্তারে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে।
শান্ত সুনামগঞ্জকে অশান্ত করতে যে বা যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।