আকাশবার্তা ডেস্ক :
বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হওয়ায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। রোববার (১৮ এপ্রিল) বেলা ৩ টায় নিজ বাসভবন দক্ষিণ শাহজাহানপুরে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।
মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ইলিয়াস আলী ‘গুম’ হওয়ার বিষয়ে শনিবার (১৭ এপ্রিল) এক ভার্চুয়াল সভায় মির্জা আব্বাসের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে মির্জা আব্বাস যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কিছু অংশ গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি কি বলতে চেয়েছেন বা কি বুঝাতে চেয়েছেন তা ব্যাখ্যা করতে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (১৭ এপ্রিল) ইলিয়াস গুম হওয়ার ইস্যুতে বিস্ফোরক তথ্য দেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ৯ বছর ধরে নিখোঁজ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ‘গুমে’র নেপথ্যে সরকার নয়, বিএনপির লোকই জড়িত।
মির্জা আব্বাস বলেন, এম ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা, দেশপ্রেমিক সাহসী নেতা। আমাদের দলের মহাসচিব আছেন, তাকে বলতে চাই, ইলিয়াস গুমের পেছনে আমাদের দলের যে বদমাইশগুলো রয়েছে তাদেরকেও চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করুন প্লিজ। এদেরকে অনেকেই চেনেন। ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়, ইলিয়াস খুব গালিগালাজ করেছিল তাকে। সেই বিষধর সাপগুলো এখনো আমাদের দলে রয়ে গেছে। যদি এদেরকে দল থেকে বিতারিত করতে না পারি সামনে এগুতে পারবেন না কোনো অবস্থাতেই।
তিনি বলেন, ছাত্র নেতাদের সঙ্গে ৯০’র স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আমার সঙ্গে ইলিয়াসের সম্পর্ক, যেটা আজ বিদ্যমান। ভালোবাসার ছাত্র নেতাদের মধ্যে ইলিয়াস আলী ছিল অন্যতম। ইলিয়াস যে রাতে গুম হয় ওই রাত দেড়টা থেকে পৌনে দুইটার দিকে খবর পাই। তাৎক্ষণিকভাবে আমার পরিচিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি তারা আমাকে জানায় তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে যেই পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে থেকে নেওয়া হলো, সেই পুলিশ কর্মকর্তাদের আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।এই খবরটা আপনারা (উপস্থিত নেতৃবৃন্দ) জানেন না। সেই গাড়িতে যে কয়জন পুলিশ কর্মকর্তা ছিল তাদের আজও পাওয়া যায়নি। যেহেতু ইলিয়াস আলীর গাড়ি চালককেও পাওয়া যায়নি। তাহলে এই কাজটি করল কে?
তিনি আরও বলেন, আমরা কিন্তু সামনের লক্ষণ ভালো দেখছি না। ইলিয়াসকে গুমের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হতে যাচ্ছে। আমি বারবার বলি নেতৃত্ব শূন্যতা। হিসেব করে দেখেন একটা একটা করে রাজনৈতিক দল শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। এখন চলছে হেফাজত। বিএনপির ওপর নির্যাতন তো চলছেই। একটা সময় আওয়ামী লীগকেও শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আমি ধরে নিলাম আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি; তাহলে গুম করল কে? আমাদের একজন নেতা সালাহউদ্দিনকে পাচার করে নিয়ে গেল, চৌধুরী আলমকে গুম করা হলো, আমাদের দলের বহু নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এটা কিন্তু বাংলাদেশকে ধ্বংস করার পূর্ব আলামত।
বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, ধরে নিলাম এই সরকার গুম করেনি; করল কে? যারা করল তাদের জিজ্ঞাসা করা যায় না? যারা এই গুম করেছে তারা এই দেশের স্বাধীনতা চাইনি, তারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব থাকতে দেবে না।বেঁচে থাকি কি না জানি না, দেখবেন সামনে আরও ঘটনা ঘটবে। গণমাধ্যমে খবরে দেখলাম প্রত্যেক থানার সামনে মেশিনগান ফিট করেছে, বালু বস্তা দিয়ে বাঙ্কার করা- এসব কীসের আলামত? কাকে মারার জন্য এসব লাগবে? ব্রিটিশ সরকার একটি লাঠি দেওয়ার আগে চিন্তা করে, সেখানে বাংলাদেশে আধুনিক অস্ত্র দিয়ে সশস্ত্রবাহিনীর আদলে পুলিশ বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। একটু হিসেব করার ব্যাপার বুঝি চলে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের একটি প্লাটুনে মাত্র একটি এলএমজি ছিল। আজকে প্রত্যেক থানার সামনে এসব মেশিনগান। এটা নাকি পুলিশকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। যেখানে পুলিশ জনগণকে সুরক্ষা দেবে, সেখানে পুলিশের সুরক্ষা এটা আমার কাছে আশ্চর্য লাগে। পুলিশকে কে আক্রমণ করতে যাবে। যেখানে পুলিশের অত্যাচারে আমরা পাগল হয়ে গেলাম। এটা পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখন যে অত্যাচার হচ্ছে সেটা ইলিয়াস আলী গুমের সূত্র ধরে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে গাড়ি চালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। নিখোঁজের পর নয় বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন পরিবার।