আইন আদালত ডেস্ক :
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে চুরি ও অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে করা মামলায় জামিন শুনানি শেষ হয়েছে। তবে জামিনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২০ মে) আদেশ দেয়া হয়নি। আদেশের জন্য রোববার (২৩ মে) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এদিকে রোজিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের রুমে থাকা অবস্থায় তার কথোপকথনের একটা ভিডিও সোশ্যাল ভাইরাল হয়। কয়েক সেকেন্ডের ছোট্ট একটা ক্লিপে রোজিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ভুল করেছি, আমি মুচলেকা দেই’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও দাখিল করতে সময় চেয়ে জামিন শুনানি পেছানোর আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন হিরন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, সাক্ষ্য আইনের ২৪ ও ২৫ ধারা অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কারও কাছে দেওয়া বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাই পুলিশ বা অন্য কারও কাছে আসামির কোনো বক্তব্য আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ভিডিও তার জামিন পাওয়া বা না পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গ্রহণযোগ্য বিষয় না। রাষ্ট্রপক্ষ এটা দাখিলের জন্য সময় চাইতে পারে না, তদন্তকালে এ ধরনের ডকুমেন্টস কেবল তদন্ত কর্মকর্তা দাখিল করতে পারেন।
এরপর শুনানি শেষ করে আদালত জানান, আদেশ দেওয়া হবে রোববার।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম রিমান্ড নামঞ্জুর করে জামিন শুনানির জন্য আজ (২০ মে) দিন ধার্য করেন।
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও দণ্ডবিধিতে করা এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব গেলো বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ মামলা নিয়ে তাদের ওপর কোনো ‘চাপ নেই’।
মামালাটি সবেমাত্র পেয়েছি এবং তদন্ত কাজ শুরু করেছি, এখন বিস্তারিত বলার সময় আসেনি। এটুকু বলতে পারি মামলাটার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সুন্দরভাবে তদন্ত হবে।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
পরে রাতে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে ব্রিটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও দণ্ডিবিধির কয়েকটি ধারায় মামলা করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বুধবার মামলার তদন্তভার পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।