অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :
আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে উন্নয়নের কর্মকাণ্ড খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধে। সংসদে বাজেট পেশ অধিবেশনে এই তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বাজেট পেশ অধিবেশনে তিনি জানান, আসছে অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটে প্রস্তাবিত ব্যয়ের ১১ দশমিক ৩৬ ভাগ।
সুদ পরিশোধে ব্যয় করা এই অর্থ দেশে বাস্তবায়নাধীন পদ্মা সেতু নির্মাণ খরচের দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে প্রমত্তা পদ্মার দুই পাড় সংযুক্ত করা সেতুর সার্বিক নির্মাণ খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে ঘাটতি ব্যয় সামলাতে হবে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
এই ঘাটতি অর্থ পূরণে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা ঋণ করতে হবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ অন্যান্য খাত থেকে। ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ঋণ করা হবে বিদেশি উৎস থেকে। বাকি ঘাটতি পূরণ করা হবে বিদেশি অনুদানের মাধ্যমে।
ঘাটতি পূরণে ঋণের সুদ পরিশোধ ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ খরচ দিতে হবে ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় হবে ৬ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।
বিদেশি উৎসের তুলনায় অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বেশি। কিন্তু সরকার বিদেশি উৎস থেকে আশানুরূপ ঋণ না পাওয়ায় বেশি সুদ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণেই বেশি ভরসা রাখছে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে এবার বিদেশি ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রাও বেড়েছে।