
বিশেষ প্রতিনিধি, রায়পুর :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার সড়কগুলো যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। রাস্তায় বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত হয়। এসব সড়কে যাতায়াতের সময় দুর্ঘটনার পাশাপাশি অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।
গত ১২ বছর ধরে বেহাল এমন অবস্থা থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারে কোনো ভূমিকা পালন করছেন না। যদিও দু’একটির কাজ হয়, তাতে ১৫-২০% কমিশন হাতিয়ে নেওয়ার কারণে কাজ হয়েছে অতি নিন্মমাণের। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রায়পুর উপজেলার হাজীমারা এলাকা থেকে হায়দরগঞ্জ বেড়ীর বাঁধ সড়ক, রুস্তম আলী ডিগ্রী কলেজ সড়ক, কাজির দিঘীরপাড় সড়ক, পীর ফয়েজ উল্যাহ সড়ক, গাজীনগর সড়ক, ল্যাংড়াবাজার-পানপাড়া সড়ক, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্যা সড়ক, সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় সড়ক, টিসি রোডসহ প্রায় সড়কগুলোরই অবস্থা অত্যান্ত নাজুক।
এসব সড়ক দিয়ে শহরে এসে ঈদের কেনাকাটা করতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন সাধারণ মানুষ।
জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও গাড়ির চালকরা জানান, পৌরসভা ৯
টি ওয়ার্ড এবং ১০টি ইউনিয়নের সড়কগুলোতে গত ১২ বছরেও কোনো প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। প্রতিদিনই সড়কগুলো যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হচ্ছেন এলাকাবাসী। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরা গাড়ি না পেয়ে সময়মত স্কুলে পৌঁছাতে পারছেনা। গর্ভবতী মা ও শিশু রোগীদের ডাক্তারের কাছে যেতে সবচেয়ে বেশি করুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইচ্ছে করলেও তারা ডাক্তারের সরনাপন্ন হতে রাজি নয়।
পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন জানান, রায়পুর থানার মোড় থেকে (পৌরসভার দুই কি: মি:) হায়দরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে পৌরসভার অংশের সড়কটির কাজ শুক্রবার (১৬ জুন) থেকে নর্দমা পর্যন্ত সংস্কার করে দেওয়া হচ্ছে। ড্রেনেজের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে ।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আক্তার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, শহরের প্রধান সড়কটি গত দুইদিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে। ইউনিয়নের সড়কগুলো বাজেট না হওয়ার কারণে সংস্কার করা যাচ্ছে না।