স্পোর্টস ডেস্ক :
অপরাজিত থেকে গ্রুপ সেরা হয়ে কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিলো ব্রাজিল। যদিও শেষ দুই ম্যাচে কিছুটা যেন এলোমেলো দেখা গেছে তাদের। কলম্বিয়ার বিপক্ষে অনেক কষ্টের জয়ের পর ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র কিছুটা হতাশ করেছে ব্রাজিল ভক্তদের। তাই যেন মনের মধ্যে একটু ভয় অনুভূত হচ্ছিলো।
কিন্তু মিশন যখন ১০ম শিরোপা জয়ের, তখন ভয় পেলে কী চলে। ভয়কে জয় করে সামনে এগিয়ে যেতে করতে হয় সংগ্রাম। তাই তো ১০ জনের নিয়ে খেলেও জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে উঠলো সেলেসাওরা।
কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে চিলিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্বাগতিক ব্রাজিল।
এ ম্যাচের প্রায় অর্ধেক সময় দশ জন নিয়ে খেলেছে ব্রাজিল। সুযোগটা কাজে লাগাতে তিতেরে শীর্ষদের রক্ষণে ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে গেল চিলি। গ্রুপ পর্বে যেমনই খেলুক, কোয়ার্টার ফাইনালে সত্যিই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল চিলি। তবে শেষ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য চিলিকে রুখে দিয়ে জয়টা নিজেদের নামে লিখে নিয়েছে ব্রাজিল।
শনিবার (৩ জুলাই) ভোরে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলটি করেন লুকাস পাকুইতা। এর দুই মিনিট পরেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
এ-গ্রুপের চার নম্বর দল চিলি শেষ আটে বি-গ্রুপের এক নম্বর দল ব্রাজিলকে মুখোমুখি লড়াইয়ে রীতিমত ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। ম্যাচের দশম মিনিটে প্রথমবার যথাযথ আক্রমণে ওঠে চিলি। যদিও ভার্গাসের শট প্রতিহত করেন এদারসন। ৫ মিনিট পর লেফট উইং থেকে ব্রাজিলের রিচার্লিসনের দূরপাল্লার শটে বল সরাসরি চলে যায় ব্র্যাভোর গ্লাভসে। ২৭তম মিনিটে ভার্গাসের শট প্রতিহত করেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক।
ম্যাচের ৩২ মিনিটেই ব্রাজিল প্রথম বড় সুযোগ পায়। চিলির রক্ষণের ভুলে আক্রমণের সুযোগ পেয়ে যান দানিলো। বক্সের সামনে থেকে গোলে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। বল ক্রসবারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। ৪৩তম মিনিটে জেসুসের শট ঠেকিয়ে দেন চিলির গোলরক্ষক। বাকি সময়ে দুই দলই গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হলে বিরতিতে ম্যাচ গোলশূন্য থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ফিরমিনোর বদলি হিসেবে নামা পাকুইতো। এর দুই মিনিট পর হাই ফুটের জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখেন জেসুস। ১০ জনের ব্রাজিলকে চাপে ফেলতে আগ্রাসী ফুটবল খেলার চেষ্টা চালায় চিলি।
তবে কিছুক্ষণ পর চিলির হয়ে ফ্রি-কিক জেতেন আরাংগুইজ। ফ্রি-কিক থেকে ব্রাজিলের জালে বল জড়িয়ে দিলেও অফসাইডের জন্য তা বাতিল করেন রেফারি।
পুরো ম্যাচে অনেকটা নিষ্প্রভ থাকা নেইমার দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি ক্ষিপ্রগতিতে চিলির রক্ষণে ঢুকে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু তার শট প্রতিহত করেন ব্র্যাভো। এরপর চিলির শট বারে লেগে ফিরে আসে। এরপর চিলির আক্রমণের ধার আরো বাড়তে থাকে।
তবে বল দখলের লড়াইয়ে চিলি অনেকটা এগিয়ে থাকলেও ব্রাজিলের জমাট রক্ষণ তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। বরং ম্যাচের শেষদিকে বড় সুযোগ নষ্ট করেন পাকুইতা। নেইমারের পাস কন্ট্রোল করতে ব্যর্থ হন এই মিডফিল্ডার।
ইতিহাসও কথা বলছিল চিলির বিপক্ষে। সব ধরণের টুর্নামেন্টে ১৬ বারের দেখায় ব্রাজিলের বিপক্ষে চিলিয়ানদের জয় ছিল মাত্র একটিতে, হেরেছে ১৩ ম্যাচে। সর্বশেষ দেখা যেবার হয়েছিল, সেই ২০০৭ সালে তারা ব্রাজিলের কাছে হেরেছিল ৬-১ গোলে।
সেই চিলিই কিনা ব্রাজিলের সামনে হাজির হয় দুর্বার রক্ষণ নিয়ে। ম্যান মার্কিংয়ের কৌশলে ব্রাজিলকে বোতলবন্দি রেখেছিল প্রথমার্ধে। ফলে বলের দখল আর মুহুর্মুহু আক্রমণ করেও গোলের দেখা মেলেনি সেলেসাওদের। যার কারণে এক গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে ব্রাজিল নিশ্চিত করে শেষ চারের টিকিট।