শনিবার ৭ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টার্গেট আ.লীগ নিধন

আকাশবার্তা ডেস্ক :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় চলছে আওয়ামী লীগ নিধন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও শান্তিতে নেই তৃনমুল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা। নেই কোন মিটিং মিছিলে সক্রিয় ভূমিকা। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা কোনঠাসা হয়ে পড়ে আছে। কেউ নিজের কর্ম নিয়ে ব্যস্ত আর কেউ কেউ একবুক হতাশা নিয়ে দিনপার করলেও নেই তাদের প্রতি কোন সু-নজর দলের সিনিয়র নেতা কর্মীর। জানতে চাওয়া হয়নি তাদের দুঃখ কোথায়।

আওয়ামী লীগ এখন পেকুয়ায় চলছে হাইব্রিডদের অনুকূলে। পেকুয়া একটি জামায়াত বিএনপি ঘেঁষা এলাকা। এই এলাকায় যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে ময়দানে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে গেছে তারা নেই এখন মাঠে। হাইব্রিড এখন পেকুয়ার আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে মাঠে ময়দানে নিবেদিত আওয়ামী লীগ কর্মীদের অপমান ও লাঞ্চিত করে যাচ্ছে। যারা স্বাধীনতা বিরোধী ও আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিলে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগকে কাফেরের দল বলে তারা এখন দলের নিবেদিত প্রাণ। হাইব্রিডদের  ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বার বার তাগিদ দিলেও এই নিয়ে কোন ধরনের তোয়াক্কা করেন না কক্সবাজার-১ চকরিয়া- পেকুয়ার সাংসদ জাফর আলম।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর এমপি পেলেও শান্তিতে নেই নেতা কর্মীরা। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার ছত্রছায়ায় জামায়াত বিএনপি নেতারা নিজেদের আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করে নানা অপকর্মে জড়িত থাকে। যার বদনাম আ.লীগকে বহন করতে হচ্ছে।

সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে পেকুয়া উপজেলা গঠিত। উপজেলায় প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাইব্রিড নেতা ঢুকে পড়েছে। তারা শুরু করছে আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতাকর্মী নিধন। এমনকি প্রবীণ আ’লীগ নেতাকেও লাঞ্চিত করার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব কিছু জেনেও পেকুয়া চকরিয়ার সাংসদ থাকেন বিএনপি জামায়াতের অনুকূলে। আ.লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কথা শুনার সময় রাখে না এমপি জাফর আলম।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, পেকুয়া মগনামায় বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে আ.লীগের দুঃসময়ের নেতাকর্মীরা। মগনামা  ইউপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম। সে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অনুচর ও যুদ্ধপরাধী মীর কাশেম আলীর দেহরক্ষী ছিলেন। সম্প্রতি সে আ.লীগ যোগদান করার নাম দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে আ.লীগ নিধন। মুল টার্গেট আওয়ামী লীগ নিধন। আবার এদিকে নিজের অবৈধ পথে আয়ের কোটি কোটি টাকা দিয়ে হয়ে যায় পেকুয়া চকরিয়ার সাংসদ জাফর আলমের একান্ত আস্থাবাজন।  চেয়ারম্যান ওয়াসিমের সাথে থাকা লোকজনও বিএনপি জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত। এমপিকে আস্থাবাজন করে শুরু করেছেন নানা অপকর্ম। মগনামায় সৃষ্টি হল তার সশস্ত্র বাহিনী। ওই বাহিনীর লোকজনকে আওয়ামী লীগের পিছনে লেলিয়ে দিয়ে কোনঠাসা করে রেখেছে তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। মগনামায় আ.লীগ শুন্য করার টার্গেট ছিল চেয়ারম্যান ওয়াসিমের। এমনকি সাফল্যের পথে।

সম্প্রতি মগনামায় ফুলতলা স্টেশনে একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সন্ত্রাসীরা রোরকা পরা অবস্থায় এসে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে জয়নাল আবেদীন নামক এক যুবককে। মূলত জয়নালকে যারা হত্যা করছে তারাই এক সময়ের চেয়ারম্যান ওয়াসিমের সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে কাজ করতো মগনামায়। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলে জানান মগনামার সাধারণ মানুষ। জয়নাল আবেদীন ছিলেন সাবেক মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহবায়ক। তবে সাধারণ মানুষের দাবি জয়নাল আবেদীন যেই দলের হোক না কেন খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন।

ওই হত্যার ঘটনায় নিহত জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই আমিরুজ্জামান বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করে। ওই মামলায় ৩২ জনকে আসামি করা হয়। ১০/১৫ অজ্ঞাতনামা দিয়ে। মামলায় ৩২ জনের মধ্যে ২২ জন ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মী। যারা সম্পূর্ণ নিরীহ নির্দোষ।

মগনামা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি খায়রুল এনাম ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ হাসেম বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করে রাজনীতি করি। বিএনপি থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের নির্যাতন আর কত সহ্য করবো। আমরা বহু দিন পর দলীয় এমপি পেয়েছি। আশা করছিলাম দলীয় এমপি আমাদের দলকে সুসংগঠিত করতে অন্যতম ভূমিকা রাখবে। কিন্তু সেটি করা দুরের কথা। বরং বিএনপি থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান তার ক্যাডার বাহিনীদের আ.লীগের পিছনে লেলিয়ে দিলেও রহস্যজনক কারণে চুপ থাকেন এমপি জাফর আলম। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মগনামায় মিটিং মিছিলে এসে সাংসদ জাফর আলম বলেন, মগনামায় আ.লীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন করার কারও দরকার নেই। আমি ওয়াসিমকে চেয়ারম্যান বানাবো মগনামায়।

এদিকে এমপির এমন বক্তব্যে মগনামার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন দলীয় সাংসদ এমন বক্তব্য দিতে পারে না। আমরা বিস্মিত হয়েছি এই কেমন আচরণ দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের প্রতি। একজন ধানের শীষের প্রতীক থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের লাঞ্চিত করা চরম দুঃখজনক। আমরা প্রয়োজনে নেত্রীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিব।

একইভাবে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের আ.লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবস্থা আরও নাজুক বললেই চলে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আ.লীগের রাজনীতির সাথে একত্বতা প্রকাশ করে নিজের জীবন ও যৌবন আ.লীগের জন্য ত্যাগ করে অদ্যবধি পযন্ত আ.লীগের সাথে আছেন এমন একজন প্রবীণ আ.লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসি। ওই আ.লীগ নেতাকে কোনঠাসা করে কোন ধরনের কাউন্সিল ছাড়া রাতারাতি গোপনে তার বৈধ ইউনিয়ন আ.লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। পরে প্রবীণ এই নেতাকে একজন উপকূলের শীর্ষ সন্ত্রাসী যার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন থানায় প্রায় ৫০ টির উপর মামলা আছে এমন দাগী মানুষকে টাকার বিনিময়ে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতির পদ দিয়ে লাঞ্চিত করা হয় নুরুল ইসলাম বিএসসিকে। যাহা ছিল সাংসদ জাফর আলমের ইশারা। ছৈয়দ নুর একজন পরিচিত ডাকাত সর্দার। তার বিরুদ্ধে বহু ডাকাতি মামলাও রয়েছে। গত ইউপি নির্বাচনে ছৈয়দ নুর তার নির্বাচনী প্রচারণায় বলছেন আমি নৌকা প্রতীক মানি না, শেখ হাসিনা মানি না।  ওই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করে নির্বাচিত হন ছৈয়দ নুর।

এদিকে চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর ও তার পুরো পরিবার বিএনপি রাজনীতির সাথে সক্রিয় তার ছোট ভাই নুরুল আবসার বধু উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি। তার অপর ভাই জাহাঙ্গীর আলম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। এমনকি ২০১৩ সালে রাজাখালী সবুজ বাজারে আ.লীগের মিছিলে গুলি বর্ষণ করে হামলা করেন। ওই হামলায় নেতৃত্ব দেন ছৈয়দ নুর ডাকাতসহ তার পুরো পরিবারের সদস্যরা। এখন জনমনে প্রশ্ন যারা আ.লীগের মিছিল মিটিংয়ে গুলি বর্ষণ করে হামলা চালায় তারা হয় চকরিয়া পেকুয়ার সাংসদের একান্ত আস্থাভাজন। এমপির ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ছৈয়দ নুর চেয়ারম্যান কোন কাউন্সিল ছাড়া ওয়ার্ড আ.লীগের কমিটি দিল জামায়াত বিএনপি নেতাদের।

এমপির এমন আচরণের রাজাখালীর ইউনিয়ন আ.লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, এই কেমন এমপি।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে কি? আমাদের এমপি মহোদয় এখানে করে কি? যাহা করে সম্পূর্ণ নেত্রীর বিপরীতে। তবে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করে যাব। নেত্রীর নির্দেশ মেনে কাজ করবো। একজন ডাকাতকে দিয়ে আর কত আমাদের অপমান করবে। আমরা প্রযোজনে রাস্তায় নামবো। খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেওয়া হয়েছে নাছির উদ্দিন নামক এক ব্যাক্তিকে। নাছির সাবেক উপজেলা শ্রমিকদলের নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ও একাধিক মামলা রয়েছে।

রাজাখালী ইউনিয়ন আ.লীগের নেতাকর্মীরা দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, রাজাখালী অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা থাকলেও দুই জন সন্ত্রাসীকে গোপনে দিল আ.লীগের কমিটি। যাদের পুরো পরিবার বিএনপি। এখন তাদের কাছে মুল আ.লীগ কর্মীর নেই কোন বিন্দু পরিমান মূল্য।

এদিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নে এসে কে হয় এমপির আস্থাভাজন তা নিয়ে চলে নানা গুঞ্জন। কেউ বলে বিএনপি থেকে যোগদান করা সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুল করিম। আবার কেউ কেউ বলে সাবেক বিএনপি নেতা ঈসমাইল মেম্বার। তারা দুইজনই গত সাংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পেকুয়া উপজেলায় অন্যতম ভূমিকা পালন করে। বিজয় সুনিশ্চিত করতে না পেরে কিছু দিন আত্মগোপন রাখেন নিজেদের।

আবার কিছু দিন পর দেখা যায় এমপি তাদেরকে ফুলের মালা দিয়ে আ.লীগে যোগদান করান। এদিকে যোগদান করাকে সাধারণ আ’লীগের নেতা কর্মীরা তাদের নাম দিয়েছেন আশ্রয়লীগ। কিন্তু ওই দুই নেতা এখন মুখে বলে আ.লীগ। কিন্তু তাদের অন্তরে বিএনপির সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের বিষ। তাদের মুল টার্গেট আওয়ামী লীগ করা নয়।  টার্গেট আওয়ামী লীগ নিধন। এরকম আরও অনেক বিএনপি জামায়াতের নেতা এমপির আস্থাভাজন বনে দলের নেতা কর্মীদের অপদস্ত করে যাচ্ছে। যাহা নজিরবিহীন।

পেকুয়া সদর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, দলীয় সাংসদ ও নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তার বিনিময়ে কিছু পেলাম না। যারা নৌকার ভরাডুবি চেয়েছে তারা এখন এমপির আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। একজন দলীয় সাংসদ বিএনপি নেতাদের সাথে নিয়ে আমাদের সাথে এমন বৈষম্য আচরণ কখনো মেনে নেওয়ার মত নয়।

এদিকে টইটং ইউনিয়নেও ক্ষমতাসীন দল আ.লীগ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। অন্তঃকোন্দলে জেরে ওই ইউনিয়নে আ.লীগের রাজনীতি স্থবির হয়ে গেছে। বিশেষ করে দলের জনপ্রিয় কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে বাদ দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রাখে। এমপি জাফর আলম ওই ইউনিয়ন আ.লীগকে ত্রিধারা বিভক্তি গ্রুপিং চাঙ্গা রাখে। চাল চুরির অভিযোগে বহিস্কৃত চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর একক নিয়ন্ত্রণে এমপি। ফলে আ.লীগের শীর্ষ পর্যায়ে কয়েকজন নেতা এমপির এই সিদ্ধান্তকে বয়কট করার ঘোষণা দেন। সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল্লা বিএ সহ ওই ইউনিয়নের আ.লীগের জৈষ্ঠ নেতারা চরম কোনঠাসা। এতে করে এমপি ও জাহেদের বলয়ের আ.লীগে জামায়াত বিএনপির একাধিক পরিচিত নেতাকে পদ পদবী দিয়ে দলে জায়গা করে দেন। রাজপথে মিছিল মিটিং নিয়ে দুঃসময়ে যারা আ.লীগ করছেন ওই সব নেতাকর্মীদের এখন আর মুল্যায়ন করা হচ্ছে না। হতাশার গ্লানি নিয়ে দুঃসময়ের এসব কান্ডারীরা  রাগ অনুরাগ নিয়ে আছে কোন রকমে। টইটংয়ে এখন হাইব্রিডদের জয়জয়কার অবস্থা। এমপির পথচলাও হাইব্রিডদেরকে নিয়ে। আ.লীগের কোন নেতাকর্মী অসুস্থ হলে মিলেনা চিকিৎসা সহয়তাও। অনেকে মৃত্যু বরন করছেন অর্থ সংকটে চিকিৎসা না পেয়ে। এমপি কোন খোঁজ খবর রাখেন না। তবে বিএনপি জামায়াতের কেউ আক্রান্ত হলে ছুটে যান এমপি সেখানে। সরকারি অনুদান অথবা ব্যক্তিগত সহায়তা দিতে কার্পন্য করেন না এমপি। টইটংয়ে বর্তমানে গভীর সংকটে আ.লীগ রাজনীতি।

পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. জুবাইদুল্লাহ লিটন বলেন, এমপি নিজেও অনুপ্রবেশকারী যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। আ.লীগ নিধন করতে আর কাউকে লাগবে না এমপিই যথেষ্ট। পেকুয়ায় জামায়াত বিএনপির নেতা ছাড়া আ.লীগের নেতাকর্মীদের এমপির কাছে কোন মুল্য নেই বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।

একইভাবে বারবাকিয়া শিলখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নে আ.লীগের রাজনীতি শুন্য বললেই চলে। যারা আছে তারাও তেমন সক্রিয় না। কারণ দলীয় নেতা কর্মীর নেই দুই পয়সার মূল্য। হাইব্রিড দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে আ.লীগের রাজনীতি। আ.লীগ এখন পেকুয়ায় হাইব্রিডদের সুন্দর মেরুকরণের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমে আ.লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দেওয়া। অন্যদিকে তারা এমপির আস্থাভাজন হওয়া। উভয় মেরুকরণে তারা সফল।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম গিয়াস উদ্দিন বলেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পেকুয়া নিয়ে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই এমপির। এমপির কাজ উন্নয়ন করা। বিএনপি জামায়াতের শীর্ষ নেতা ও হাইব্রিডের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংপৃক্ত করছেন এমপি। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে এমপির এই ধরনের আচরণে দলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে গেছে। ফলে তারা আ.লীগ থেকে এখন ছিটকে পড়ছে। এসবের জন্য এমপি দায়ী বলে মন্তব্য করেন জেলা আ.লীগের এ নেতা।

তিনি আরও বলেন, পেকুয়া চকরিয়ায় আ.লীগ নিধন করতে এমপি একজন থাকলে চলবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১