বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাত পোহালেই লকডাউন, আজই ঢাকায় ফিরতে হবে!

আকাশবার্তা ডেস্ক :

শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হচ্ছে কঠোর লকডাউন। ধারণা করা হচ্ছে এই লকডাউন হবে আগের সকল লকডাউন থেকে বেশি কার্যকর এবং কঠোর। সরকার পবিত্র ঈদুল আজহা এবং পশুর হাটকে কেন্দ্র করে লকডাউন কিছুটা শিথিল করলে ঢাকা ছাড়তে শুরু করে লাখ লাখ ঘরমুখো মানুষ। বুধবার (২১ জুলাই) ছিল ঈদুল আজহা আর রাত পোহালেই শুরু হবে কঠোর লকডাউন। যারা কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন তারাই ঠিক লকডাউনের একদিন আগে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যেভাবেই পারছেন চেষ্টা করছেন ঢাকায় প্রবেশের।

অপরদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন বলেছেন,  ঈদুল আজহার পরদিন (২২ জুলাই) এর মধ্যে ঢাকায় ফিরতে না পারলে বাড়িতে থাকতে হবে। অর্থাৎ আজ ফিরতে না পারলে সবাইকে বাড়িতেই থাকতে হবে। আগামীকাল ২৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সবচেয়ে কঠোর লকডাউন। যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত। এই ইস্যুতে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) বিকাল থেকেই ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে। ঢাকায় ফিরতে যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা গেছে।

জানতে চাইলে ঢাকামুখী অধিকাংশ যাত্রীরাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আরও দুই/একদিন পর থেকে লকডাউন দিতে পারত সরকার। ঈদের পরের দিনই ছুটতে হচ্ছে ঢাকায়। শুক্রবার খোলা থাকলেও ধীরে-সুস্থে যাওয়া যেত।

ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নৌরুটে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। নৌরুটে ঢাকাগামী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বেশির ভাগই প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল। নৌরুটে স্রোত বেশি থাকায় ফেরি চলাচলে সময় বেশি লাগছে। ফলে ঘাটে গাড়ির চাপ বেশি।

এদিকে বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটে কোনো স্বাস্থ্যবিধি নেই। ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী বহনের কথা থাকলেও লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নেওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করে জানান।

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে ঘাটে। তবে এখনও ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ রয়েছে। এখন উভয়মুখী চাপ ঘাট এলাকায়।

বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার হোসেন বলেন, দুপুরের পর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এছাড়া সকাল থেকে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপও রয়েছে।

ওই ২৩টি শর্ত হলো-

১. সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২. সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

৩. শপিংমল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৪. সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

৫. সব প্রকার শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

৬. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি) রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৭. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৮. ব্যাংকিং/বীমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৯. সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাফতরিক কাজ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন।

১০. আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন/বিক্রয়, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারি ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

১১. বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থবিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

১২. জরুরি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/নৌযান/পণ্যবাহী রেল/ফেরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

১৩. বন্দরসমূহ (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং এ সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

১৪. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন, বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

১৫. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৬. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকাগ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

১৭. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

১৮. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামীযাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।

১৯. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

২০. ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠপর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

২১. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি/কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সেইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোনো কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

২২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

২৩. ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ এর আওতায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২১
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« আগষ্ট    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০