আকাশবার্তা ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরে ঈদ কেনাকাটা জমজমাট। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিপণিবিতান, শপিংমল এবং মার্কেট এলাকা ক্রেতাদের উপস্থিতিতে সরগরম। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ভিড় বাড়ছে মার্কেটগুলোতে। বিক্রেতারা বলেছেন, এতদিন অল্পসংখ্যক ক্রেতা পোশাক নেড়েচেড়ে দেখলেও বেচাবিক্রি কম ছিল। তবে গত শুক্রবার থেকে বলা যায়, ঈদের কেনাকাটা পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাসের শুরুতে বেতন বোনাস পেয়ে ক্রেতারা কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সরকারের প্রায় সাড়ে ১২ লাখ কর্মকর্তা ও কর্মচারী ইতিমধ্যে ঈদ বোনাস পেয়ে গেছেন। অনেকে আবার বেতন পাবেন ঈদের আগে। ফলে বোনাসের টাকা হাতে পেয়েই পরিবার পরিজন নিয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই।
জানা গেছে, এ বছর সম্ভাব্য ঈদের ছুটি ২৩-৩০ জুন পর্যন্ত টানা ৯ দিন। দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসা ও চাকুরীতে কর্মরত সাধারণ মানুষ আগামী শুক্রবার থেকে পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। কর্মজীবী এসব মানুষ গ্রামে চলে আসলে জেলার মার্কেট ও বিপনিবিতানগুলো আরো জমজমাট হয়ে ওঠবে। ফলে এসব লোকজনের কেনাকাটায় আগামী সপ্তাহজুড়ে ঈদের আগেই জেলাব্যাপি উৎসবের নগরীতে পরিণত হবে।
দোকানিরা আশা করছেন, বেচাকেনার চাপে আগামী সপ্তাহের প্রতিটি দিনই দম ফেলার ফুরসত থাকবে না।
লক্ষ্মীপুরের বৃহৎ বাণিজ্যিক শপিংমল চকবাজার মসজিদ মার্কেট, লক্ষ্মীপুর নিউ আধুনিক মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, পৌরবিপনি বিতান, লেকমি, আউটলুক, পিংকি প্লাজার ওয়ান টু নাইনটি নাইন, চন্দ্রগঞ্জের নিউ মার্কেট, ওয়ানপ্লাজা শপিং কমপ্লেক্স, দাদাভাই শপিং কমপ্লেক্স, রায়পুর, রামগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহরের বড় মার্কেটগুলোতে এখন বেচাকেনার ধুম।
লক্ষ্মীপুরের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতাদের মতে, এবার ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে হুররম শাড়ি, থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবি।
চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন বাহারি ব্র্যান্ডের শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবির অফুরন্ত কালেকশন মজুদ করেছে ব্যবসায়ীরা। দেশসেরা সব বুটিক হাউস এবং সর্বাধুনিক পোশাকসহ ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করার জন্য সবধরণের আইটেমের আয়োজনই রয়েছে এসব মার্কেটে। পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
মার্কেটগুলোতে দেখা গেছে, নতুন নতুন পোশাকের কালেকশনের বিপুল সমাহার। স্টোন থ্রি-পিস ৭ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা, স্টোন কেপ থ্রি-পিস সাড়ে ১১ হাজার থেকে সাড়ে ১৭ হাজার টাকা, স্টোন ওয়ান পিস সাড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানি পার্ল থ্রি-পিস ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১৮ হাজার টাকা, পাকিস্তানি কেপ সাড়ে ১১ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন মান ও রঙের গাউন পাওয়া যাচ্ছে ৭ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে। সিঙ্গেল পিস কুর্তি ৫ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। মেয়েদের পোষাকে যুক্ত হয়েছে এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রের নায়িকার পোষাক বাহুবলী-২। দামও অনেক। একেকটি বাহুবলী-২ পোষাকের দাম সর্বনিন্ম সাড়ে ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এছাড়া ছোটদের পাঞ্জাবি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন পণ্যের কালেকশন। দোকানিরা বলছেন, ঈদে সব কালেকশনই আনকমন। ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
এডিশন নামের পাঞ্জাবিটি এ বছরই প্রথম বাজারে এসেছে। দাম পড়বে ২ হাজার ৪০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।
চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী রুনা বেগম বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছি। কোনো রকম ঝামেলা ও ঝঞ্ঝাট ছাড়াই শপিং করলাম। এত সুন্দর, নিরিবিলি ও পারিবারিক পরিবেশে শপিং করার সুযোগ লক্ষ্মীপুরে খুব কমই আছে।
এদিকে ঈদে কেনাকাটা নির্ভিঘœ করতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন ও র্যাবের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বড় বড় বিপনিবিতান গুলোতে পৃথক পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে সাদা পোষাকে গোয়েন্দা নজরদারিসহ পোষাকধারী পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।