স্বাস্থ্য ডেস্ক :
করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করে এসএমএস পেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যার ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেকেই। টিকার নিবন্ধন করার এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মেসেজ পাচ্ছেন না অনেকেই। সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করায় টিকার এসএমএস না পেয়ে গণটিকায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি অনেক মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, যারা সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করেছে অথচ মেসেজ পায়নি তারা গণটিকায় অংশ নিতে পারবে না। নির্দিষ্ট কেন্দ্রই এসএমএস পেয়ে টিকা দিতে হবে। তবে এসএমএস সমস্যার বিষয়টি তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
কাউছার আলম পেশায় চাকুরিজীবি। কাজ করছেন রাজধানীর একটি ফার্মেসীতে। টিকা পেতে নিবন্ধন করেছেন মাস খানেক আগে কিন্তু এখনো এসএমএস পাননি তিনি। যার ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাকে। এ সস্পর্কে কাউছার আলম বলেন, টিকার জন্য নিবন্ধন করেছি এক মাস আগে কিন্তু এখনো কোন এসএমএস পাইনি। অথচ গণটিকায়ও অংশ নিতে পারছি না। এইদিকে অফিস থেকে চাপ দিচ্ছে টিকা নিতে যেহেতু ফার্মেসীতে জব করি। প্রতিনিয়ত নানান ধরনের রোগী আসে নিজেকে নিয়ে শংকাও হয়। টিকা নিতে এত ভোগান্তিতে পড়তে হবে আগে জানলে নিবন্ধন না করেই গণটিকায় আইডি কার্ড নিয়ে অংশ নিতাম।
রাজধানীর মালিবাগের বাসিন্ধা সাহেব আলী। চার সপ্তাহ আগে পুরো পরিবারের ২৫ বছরের উপরের সদস্যদের টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মোবাইলে কোন এসএমএস আসেনি। যার ফলে হতাশ তিনি। সাহেব আলী বলেন, আমি পেশায় একজন বেসরকারি চাকুরিজীবি। টিকা নেয়া ছাড়া অফিস করতেও সমস্যা হচ্ছে। পরিবারের সবার জন্য টিকার নিবন্ধন করেছি ২৮ দিন আগে কিন্তু এখনো কোন মেসেজ পাচ্ছি না। গত কাল(৭আগষ্ট) আইডি কার্ড নিয়ে গণটিকায় অংশ গ্রহণ করতে গিয়েছিলাম কিন্তু দিতে পারিনি সেখানে বলছে অনলাইনে নিবন্ধন করলে সেখানে টিকা দেয়া যাবে না। একপ্রকাশ বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আমাদের।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা তাবিত রাজ। বাবা মার জন্য টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন সুরক্ষা অ্যাপে গত মাসের ২০ তারিখ। তিনি বলেন, গতমাসের ২০ তারিখ নিবন্ধন করেছি কিন্তু এখনো মেসেজ পাইনি। আমার এক আত্মীয় আমার পরে নিবন্ধন করে মেসেজ পেয়ে টিকা দিয়েও আসছে।
টিকার এসএমএস দেড়িতে পাওয়া নিয়ে টিকা প্রদান করা হাসপাতাল গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিকা পাওয়ার বয়সসীমা কমিয়ে আনায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ নিবন্ধন করছেন। তবে প্রতিদিন টিকা দেয়া হচ্ছে মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষকে। কোন কোন হাসপাতালে দেয়া হচ্ছে ৩৫০-৪০০ মানুষকে অথচ প্রতিদিন নিবন্ধন করছেন ২ থেকে ৩ হাজার যার ফলে টিকা নেয়ার তারিখ জানিয়ে এসএমএসও পাঠানো হচ্ছে দেড়িতে। যে কেন্দ্র গুলোতে নিবন্ধন সংখ্যা কম সেখানে দ্রুত টিকা নেয়ার মেসেজ পাঠানো হচ্ছে আর যেখানে নিবন্ধন সংখ্যা বেশি তারা মেসেজ পাচ্ছে দেড়িতে।
এ সর্ম্পকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, টিকা নিবন্ধনের বয়স কমিয়ে আনার পর থেকেই ব্যাপক হারে টিকার নিবন্ধন হচ্ছে। কিন্তু এক কেন্দ্রে দৈনিক ২০০-৩০০ জনের টিকা দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও নিবন্ধন হচ্ছে অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে এসএমএস আসতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে উদিগ্ন হওয়ার কোন কারন নেই যারাই নিবন্ধন করেছেন, তারা সবাই টিকা পাবেন।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হকের সাথে কথা হলে তিনি আমার সংবাদকে জানান, যারা অনলাইনে নিবন্ধন করেছে তারা কোন ভাবেই গণটিকায় অংশ নিতে পারবে না। এসএমএস এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নির্দিষ্ঠ কেন্দ্রের এসএমএস পেলেই টিকা দিতে যাবে। টিকার পরিমান ও সার্বিক দিক বিবেচনা করেই এসএমএস এর মাধ্যমে জানানো হচ্ছে টিকার নেয়ার তারিখ।
এসএমএস দেড়িতে আসার ব্যাপারে ডা.শামসুল হক আরো বলেন, নিবন্ধনের এসএমএস আসা, সুরক্ষা অ্যাপের বিষয়টি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের। আইসিটি মন্ত্রনালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ চলছে। আর একসঙ্গে অনেকেই টিকার জন্য নিবন্ধন করছেন। তাই কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আশা করছি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।