বিনোদন ডেস্ক :
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে চার দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) আবার আদালতে তোলা হয়।
পরীমণির সঙ্গে দেখা করতে তার নানা শামসুল হক গাজী এদিন গিয়েছিলেন আদালতে। কিন্তু নাতনি পরীমণির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।
পরীমণি সম্পর্কে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের বলেন, আমি ছাড়া ওর কেউ নাই। ওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এসময় কথা আটকে যায় তার মুখে।
পরীমণি খুব ছোটবেলায় মা হারান, একটু বড় হয়ে বাবাকে হারিয়ে বড় হন পিরোজপুরে তার নানা শামসুল হক গাজীর কাছে।
এদিন ওই মামলায় শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নানা শামসুল হককে দেখে চিৎকার করে কথা বলার চেষ্টা করেন পরীমণি। দূর থেকে ‘নানা, নানা’ বলে ডাকেন। পুলিশ সদস্যরা এর বেশি কথা বলার সুযোগ দেননি তাকে। পরীমণির এই মামলাকে কেন্দ্র করে আদালতে এদিন ছিল ব্যাপক ভীড়।
এদিকে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আবারও দুইদিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে তাকে আরও পাঁচদিন রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুনানি শেষে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস।
শুনানি শেষে এজলাস থেকে বেরিয়ে লিফটে ওঠার আগে ভিড় করে থাকা উৎসুক জনতাকে উদ্দেশ্য করে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণি বলেন, আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পরীমনির ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গত ৪ অগাস্ট তার বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। পরে পরীমণি ও দীপুকে গ্রেপ্তার করে মাদক আইনে মামলা করা হয়।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরীমণির বাসা যেন ‘মিনি বার’, সেখান থেকে থেকে মদের পাশাপাশি ইয়াবা ও এলএসডির মত মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে।
সেই রাতে বনানীতে চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাড়িতেও অভিযান চলে। সেখান থেকে রাজ এবং তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলীকে র্যাব গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ছাড়াও পর্নগ্রাফি আইনে আলাদা মামলা হয়েছে।
ওই দুই মামলায় তাদের মঙ্গলবার মোট ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়। রিমান্ড শুনানির সময় পরীমণি চশমার নিচে হাত দিয়ে চোখ মুছছিলেন। আশরাফুল ইসলাম দীপুও কাঁদছিলেন। আর পরীমণির এক সিনেমার প্রযোজক রাজ ছিলেন বিমর্ষ।