আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৯৬ বছর বয়সী ড. মাহাথির মোহাম্মদ আর প্রধানমন্ত্রী হতে চান না। বুধবার রাতে স্থানীয় এক টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহতির এ মন্তব্য করেন। তিনি শুধু দেশটির ন্যাশনাল অপারেশন কাউন্সিলের নেতৃত্ব দিতে চান
তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না। আমি ন্যাশনাল অপারেশন কাউন্সিলের (এনওসি) নেতৃত্ব দিতে চাই। কিন্তু কাউন্সিল যেই সিদ্ধান্ত নিবে না কেন, সরকারকে অবশ্যই তা মেনে নিতে হবে। কারণ আমার প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ নয়, এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই ক্রান্তিকালে দেশের জনগণ যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা পরিচালনা করা।
চলমান লকডাউন পরিস্থিতি দীর্ঘকাল অব্যাহত থাকলে কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে (বিশেষত যেখানে সামাজিক সুরক্ষা বলয় সীমিত)। তাই লকডাউনের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠার ক্ষমতা ধনী রাষ্ট্রগুলোর থাকলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রগুলো এ বাস্তবতায় কতদূর টিকে থাকতে পারবে, সেটি একটি কঠিন প্রশ্ন। করোনার এই প্রাদুর্ভাব কবে নাগাদ শেষ হবে তা এখন অনুমান করা সম্ভব নয়।
মালয়েশিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন বজায় থাকলে কর্মহীনতা ও দরিদ্রতা লাগামহীন হারে বাড়তে পারে, এর সাথে বাড়তে পারে অনাহারজনিত মৃত্যুর সংখ্যাও। এতে এমন এক পরিস্থিতি সামনে আসতে পারে যেখানে অর্থনীতিজনিত মৃত্যুর সংখ্যা করোনা মহামারীতে প্রাণ হারানো সংখ্যার সমানুপাতিক হয়ে যেতে পারে।
তবে করোনার অতিমারীর কারণে জগৎজুড়ে মানবজীবন আজ বিপর্যস্ত, ভেঙে পড়ছে অর্থনীতির চাকা। করোনায় হানা দিয়েছে রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় কার্যাবলীসহ সর্বক্ষেত্রে। এখন আতঙ্ক আর অস্বস্তির মধ্যে মানুষকে কাটাতে হচ্ছে সর্বক্ষণ। এছাড়া মালয়েশিয়ায় যখন শনাক্তের সংখ্যা ২ হাজারে ছিল তখনই আমি সরকারকে ন্যাশনাল অপারেশন কাউন্সিলের ধারণা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমার ধারণা ছিল সরকার যদি তখন আমাকে অনুমতি দিত তাহলে আজ মালয়েশিয়ার করোনা পরিস্থিতি এমন হত না।
তিনি বলেন, এরপর থেকেই থেকেই দেশটিতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৬ হাজার, ৯ হাজার, ১৪ হাজার। সবশেষ আজ ২২ হাজার ২৪২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলো। যা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে আজ সর্বোচ্চ শনাক্ত। আমার বিশ্বাস ছিল হয়তো সরকারের চেয়ে ভালো করতে পারতাম। যদি আমরা সঠিক লোকদের সাথে পরামর্শ করে কোভিড -১৯ মোকাবেলা করার ধারণা পেতে পারতাম।
মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদ প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৪৬ সালে রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি হয়। ১৯৬৪ সালে রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (ইউএমএনও) হয়ে তিনি মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।