শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপহারের ঘর ভাঙার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণ করা উপহারের ঘরগুলোর মধ্যে অন্তত ৩০০টি কে বা কারা ভেঙে ফেলেছে জানিয়ে তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, আমি দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলব, যে কয়টা ঘর, ৩০০ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, প্রত্যেকটার তদন্ত তাদের করতে হবে। তাদের রিপোর্ট দিতে হবে। এটাই আমার কথা। তাদের রিপোর্ট দিতে হবে।

উপহারের ঘর নিয়ে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, অবশ্যই এখানে দুর্নীতি করলে আমি সেই দুর্নীতি মানতে রাজি নই। গরিবকে ঘর করে দেব, সেখান থেকেও টাকা মেরে খাবে?

সংসদ অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্য বক্তব্যে জানান, দুদকের একজন কর্মকর্তা তাকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের কারণে তারা উপহারের ঘরের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করতে পারছেন না।

তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো কর্মকর্তার তো এই কথা বলার কথা না। এই কথা যে কর্মকর্তা বলেছে, যদি আমি জানতে পারি, তো তার ব্যাপারেও একটু খোঁজ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত বন্ধ করবে কেন? সেখানে আমার প্রশ্ন। তাদের তো তদন্ত বন্ধ করার কথা না। তাদের তদন্ত চালু রাখতে হবে। তদন্ত করে দেখতে হবে, যারা ভাঙল তারা কারা? তাদের উদ্দেশ্যটা কী ছিল? তারা কেন ভাঙল? দুর্নীতি দমন কমিশন যদি তদন্ত করে থাকে, করতেই হবে।

আগামীতে উপহারের ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন কৌশল নেয়ার কথাও জানান সরকারপ্রধান। বলেন, আমরা এখন ঠিক করেছি কংক্রিটের পিলার ও স্টিলের ফ্রেম দিয়ে ঘর করে দেব, যাতে চট করে ভাঙতে না পারে।

উপহারের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর নিয়ে বিশদ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করেছি। দেখা গেছে ৯টি জায়গায় আমরা দুর্নীতি পেয়েছি। ১০/১২ জায়গায় যেখানে অতিবৃষ্টি হলো, সেখানে বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে ঘর পড়ে গেছে। সেখানে কিন্তু আরও অনেক ঘর ছিল।

তবে ৩০০টি স্থানে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আর ৩০০টি জায়গায়, যেখানে প্রত্যেকটি ঘরের ছবি আমার কাছে আছে, পুরো তদন্ত করে দেখা গেছে সেখানে দরজা-জানালার ওপর হাতুড়ির আঘাত। ফ্লোরগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভাঙা। প্রশ্ন উঠবে জানলে ছবিটা নিয়ে আসতাম। আগামীতে ছবি দেখাব। ইটের গাঁথুনি, পিলার সেগুলো ভেঙে ফেলে দেয়া হয়েছে। এটা তো দুর্নীতির জন্য হয়নি। এটা কারা করল? তবে হ্যাঁ, কারা করেছে তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু অ্যারেস্টও হয়েছে। তাদের অ্যারেস্ট করা হবে, ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মিডিয়াতে কী লিখল আর টক শোতে কী বলল ওসব নিয়ে আমি দেশ পরিচালনা করি না, আমি দেশ পরিচালনা করি অন্তর থেকে। আছে কিছু লোক, আছে না? যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। এই অবস্থায় কিছু লোক ভোগে। আর কিছু লোক আছে হতাশায় ভোগে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মানুষের একটা বদ অভ্যাস হয়ে গেছে কথায় কথায় হতাশ হওয়া। আর যতই কাজ করি তারপরেও বলবে এটা হলো না কেন, ওটা হলো না কেন? আমি একটু বলব, এটা না বলে আগে কী ছিল আর এখন কী আছে সেটা দেখলেই তো হয়ে যায়। সেটা দেখতে পারবে না।

তিনি বলেন, আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য বছরের পর বছর তিনি জেল খেটেছেন। নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন। সেই মানুষগুলোর জন্য কী কাজ করতে হবে, এটা শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকে মায়ের কাছ থেকে; আমি সেটাই কাজে লাগাই। মানুষ তার সুফল পাচ্ছে কি না সেটা যাচাই করি। কে কী বলল ওটা শুনে হতাশ হওয়া বা উৎসাহিত হওয়া আমার সাজে না, আমি করিও না। এটাই হলো বাস্তবতা।

একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সরকার প্রধান আরও বলেন, পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। আগামী জুনেই পদ্মা সেতু চালু হবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১