আকাশবার্তা ডেস্ক :
কক্সবাজার উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে ক্যাম্পের ভেতর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কুতুপালং ১ নম্বর ক্যাম্পের ডি ব্লকে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ওপর গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরেক রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, এশার নামাজের পর নিজ অফিসে অবস্থানকালে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা তাকে লক্ষ্য করে মোট ৫ রাউন্ড গুলি করে। এতে তিন রাউন্ড গুলি মুহিবুল্লাহর বুকে লাগলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি এখন উখিয়া-টেকনাফের ৩২ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে ছিলেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ ১৯৯২ সালে রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। তখন থেকেই সে রয়েছে টেকনাফ অঞ্চলে।
বিংশ শতকের গোড়ার দিকে ১৫ জন সদস্য নিয়ে গড়ে তোলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানরাইটস’ বা এআরএসপিএইচ। স্থানীয় বাংলাদেশি মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গেও গড়েন যোগাযোগ। ধীরে ধীরে মুহিবুল্লাহ প্রধান পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সংকটের দুই বছর উপলক্ষে মহা-সমাবেশের ডাক দেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ। ঘোষণা অনুযায়ী প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার সমাগম ঘটে ওই মহা-সমাবেশে। কিভাবে আশ্রিত রোহিঙ্গারা এ সমাবেশ করলো তা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় সর্বত্র।
সূত্র : ভোরের কাগজ