আকাশবার্তা ডেস্ক :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের পল্লীতে বিয়ের দাবিতে হিন্দু প্রেমিকের ঘরের সামনে অনশন করছেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মুসলিম প্রেমিকা। তিনি একজন নও মুসলিম তরুণী।
উপজেলার পশ্চিম বড়কুল ইউনিয়নের নাটেহারা গ্রামের লালু মাঝির বাড়িতে শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে তিনি অনশনে বসেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, এই খবরে লালু মাঝির ছেলে অভিযুক্ত প্রেমিক রাজন (২৫) আত্মগোপনে চলে গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, নাটেহারা গ্রামের মাঝি বাড়ির লালু মাঝি ও নজমিয়া আপন ভাই। দীর্ঘদিন আগে নজমিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাজীগঞ্জ ছেড়ে ভৈরবে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে ব্যবসা করেন এবং বর্তমানে ভৈরবেই বসবাস করছেন।
অনশনকারী তরুণী জানান, তার বাবা নজমিয়া মুঠোফোনে এক প্রবাসীর সাথে তার বিয়ে দেন। কিন্তু তার চাচা লালুর ছেলে অর্থাৎ চাচাতো ভাই রাজন কাজের সুবিধার্থে ভৈরবে যায়। সেখানে তাকে প্রেম ও বিয়ের আশ্বাসে অনৈতিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। এমনকি তাদের অন্তরঙ্গ ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবিও ধারণ করে। শুধু তাই নয়, তার প্রবাসী স্বামীকে সব ছবি পাঠিয়ে দেয় এবং এ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী স্বামী তার সাথে বিচ্ছেদ করে।
অনশনরত তরুণীর বড়বোনের স্বামী মাছুম মিয়া জানান, এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য তিনিসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা হাজীগঞ্জে এসেছেন।
রাজনের মা শিখা রানী বলেন, দু’মাস আগে আমরা এ ঘটনা জানতে পেরেছি। এখন ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবো।
ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজী জানান, অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সন্তান প্রসবের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তে নেয়া হবে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছেন।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশীদ বলেন, অনশনের খবর জানি। তবে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা কি না বলতে পারবো না। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।