শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে নয়ামুখ মায়া, লিটন ও কামরুল

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের তিনজনকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহীর সভায় দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা এই তিন নেতাকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৯ জনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমন্ডলী। ২০১৯ সালের জাতীয় সম্মেলনের পর ঘোষিত কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ১৭ জন। চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বৈশ্বিক মহামারি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। এর আগে গত বছরের মারা যান আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। এরপর থেকেই তিনটি পদ শূন্য ছিলো।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম উপাধি লাভ করেন। মায়া চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুরের সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মিউজিক কলেজ থেকে আই মিউজিক পাশ করেন। এছাড়া ও জগন্নাথ কলেজ থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে পরবর্তীতে এলএলবি ডিগ্রী অর্জন করেন। মায়া বীর বিক্রম ১৯৬৫ সালে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে চাঁদপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৭ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন, পরবর্তীতে ১৯৯৮-২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবং ২০১৪ সালে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ে সফলতার সাথে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি যুদ্ধকালীন ২ নং সেক্টরের ক্র্যাক প্লাটুনের কমান্ডার হিসেবে বীরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাব পেয়েছেন।

দক্ষ রাজনীতিবিদ ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহীর মেয়র ছিলেন এবং ২০১৮ সালে পুনরায় নির্বাচিত হন। খায়রুজ্জামান লিটন ১৯৫৯ সালের ১৪ আগস্ট রাজশাহী জেলার কাদিরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর ১৯৭৬ সালে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭৯ সালে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি তিনি বার কাউন্সিলের সদস্য হন। ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন লিটন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (পবা-বোয়ালিয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০০৮ সালে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১৩ সালের ৯ মে পর্যন্ত মেয়র ছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট পুনরায় মেয়র নির্বাচন করে জয় লাভ করেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। খায়রুজ্জামান লিটনের পিতার নাম আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। আবুল হাসনাত বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।

মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম আইনজীবী ও রাজনীতিবদ। তিনি ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ১৩ জানুয়ারি ২০১৪ সাল থেকে ৬ জানুয়ারি ২০১৯ সাল পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বারে যোগদানের মাধ্যমে আইন পেশা শুরু করেন কামরুল ইসলাম। পরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৬-২০০১ সালে কামরুল ইসলাম ঢাকার পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে ৬ দফা ও ১১ দফা ভিত্তিক গণআন্দোলনে অংশ নেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেছেন । তিনি ২০০৮ সাধারণ নির্বাচনে ঢাকা-২ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে হন। ২০১৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদন্দ্বীতায় পুনরায় সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনঃরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়অরি ২০১৪ থেকে তিনি খাদ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১