রবিবার ৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সেই দস্যুরা কেমন আছেন?

আকাশবার্তা ডেস্ক :

স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যয়ে গত ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাতে নিজেদের সমর্পণ করে ভালোর সাথে আলোর পথে ফিরেছিলেন কক্সবাজার জেলার সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে খ্যাত আতংকের উপজেলা মহেশখালীর বাঘা বাঘা সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী বাহিনী ও জলদস্যুরা।

প্রশাসনের হাতে নিজেদের সমর্পণের ২ বছর পূর্ণ হল মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর)। এরইমধ্যে অনেকে জামিনে বের হয়ে সরকারি অনুদান নিয়ে স্বাভাবিক জীবন শুরু করেছেন। অনেকে আত্মসমর্পণ করেও প্রতিপক্ষের প্রতিঘাতে নিজগৃহ ছেড়ে রয়েছেন এলাকার বাইরে। এ তিন বছরে অনেকে এলাকা ছাড়া হয়েও হয়েছেন খুন-গুম ও মামলার শিকার। আবার কেউ জড়িয়েছেন পূর্বের পেশায়। এরপরও আত্মসমর্পণের তিন বছরে কেমন আছে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা দস্যুরা?

তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন রাত সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ির উত্তর রাজঘাটে বেড়াতে গিয়ে ওয়াপদা পাড়া নামক স্থানে উৎপেতে থাকা ডাকাত দলের হাতে অপহৃত হয়ে কোহেলিয়া নদীর পাড়ে খুন হন আত্মসমর্পণ করা উত্তর নলবিলার একরাম (৩০)। এরপর গেল ১৮ অক্টোবর আত্মসমর্পণ ফেরারি সন্ত্রাসী সহ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন কালারমারছড়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আব্বাসের ভাই রুহুল কাদের। সবশেষ গত ৫ নভেম্বর কালারমারছড়া কালুর পুল (বাঁশডোয়া) নামক স্থানে পূর্ব শত্রুতার জেরে ফের খুন হন আত্মসমর্পণকারী মোহাম্মদশাহ ঘোনার আলাউদ্দিন।

এদিকে আত্মসমর্পণকারী উত্তর নলবিলার একরাম হত্যা তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে হলেও ফকিরজোম পাড়ার রুহুল হত্যায় আত্মসমর্পণকারী কিছু সন্ত্রাসী পরোক্ষভাবে জড়িত বলে নিহত রুহুল কাদেরের পরিবার দাবি করছে। তবে আলোর পথে আসা মোহাম্মদশাহ ঘোনার আলাউদ্দিন হত্যায় পিতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে স্থানীয় ছামিরা ঘোনার মৃত মনসুর আলমের (রসু) ছেলেরা আলাউদ্দিনকে খুন করলেও সে হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণ করেও মামলাজালে পড়েন কিছু আলোর পথে আসা সমর্পণকারীরা। মামলাজালে পড়া আত্মসমর্পণকারী পরিবারগুলোর দাবি, আলাউদ্দিন হত্যার সময় তো দূরের কথা তারা নিয়মিতই এলাকায় থাকেন না।

তারা জানায়, এটি শুধুমাত্র হয়রানি করতেই তাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, এসব হত্যা মামলায় বেশ ক’জন আসামি র‍্যাব ও পুলিশের গোপন ও প্রকাশ্যের অভিযানে গ্রেপ্তার হন। পুলিশ বলছে, আত্মসমর্পণ করে ফের পূর্বের পেশায় ফেরার কোনো সুযোগ নেই।

পাশাপাশি এসব হত্যায় আত্মসমর্পণকারীদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আলাউদ্দিন হত্যায় এখন পর্যন্ত ৫ আসামি গ্রেপ্তার দেখিয়েছে র‍্যাব ও পুলিশ। উত্তর নলবিলার একরাম হত্যায় ইন্টারনেট সুত্রে ২জনের গ্রেপ্তার দেখা গেলেও ফকিরজোম পাড়ার রুহুল কাদের হত্যায় ১ মাসেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই।

চট্টগ্রামের অপরাধ বিষয় সাংবাদিক মুহাম্মদ সেলিম দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, তথ্য অনুযায়ী মহেশখালীর সন্ত্রাসীরা আলোর পথে ফিরলেও নব্য সন্ত্রাসীদের সৃষ্ট উপ-গ্রুপগুলো এবং রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের আধিপত্য জিইয়ে রাখতে আত্মসমর্পণকারীদের আবারও খারাপ কাজে ব্যবহার করছে। কালারমারছড়া এতোদিন শান্ত থাকলে হঠাৎ এত উত্তপ্ত হওয়ার পেছনে জনপ্রতিনিধিসহ রাজনীতিবিদদের ইন্দন থাকতে পারে। সবকিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে নজরে রাখতে হবে। তবে আত্মসমর্পণকারী নিরপরাধ কেউ যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন সেজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, যেকোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মহেশখালী থানার দুই পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে ১৩জন পুলিশ বিশেষ করে সার্বক্ষণিক নজর রাখছে কালারমারছড়াকে। কোনো রকম গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।

গত ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কালারমারছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে অস্ত্রের ৯ কারিগরসহ  ৯৬ জন জলদস্যু আত্মসমপন করেন। জমা দেয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৩টি ৩০৩ রাইফেল, একটি দোনলা বন্দুক, ১৪১টি একনলা বন্দুক, ২৮টি ৩০৩ রাইফেলের গুলি, ২৫৫টি কার্তুজ ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। সে সময় অনুষ্ঠানে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় আত্মসমর্পণকারী ৯৬ জলদস্যুকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১