মঙ্গলবার ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি

বেগমগঞ্জে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কোচিং বাণিজ্য ও টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বদলী হলেও পুনরায় স্কুলটিতে যোগদান করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তিনি সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়ার খুশি মতো চলেন। স্কুলটিকে বানিয়েছেন দুর্নীতির আখড়া।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এবং শিক্ষার্থীদের ’শুয়ারের বাচ্চা ও কুকুরের বাচ্চা’ বলায় আজ থেকে আড়াই বছর আগে প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানকে স্কুল থেকে বদলী করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি কিছুদিনের মধ্যে পুনরায় ওই স্কুলে যোগদান করেন। পুনরায় এসেই তিনি আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। পুরো স্কুলটিকে তার নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু করেন ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের উপর নির্যাতন। বিগত সেশনে স্কুলের কোটার চাইতে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী বেশি ভর্তি করান। প্রতি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ৫০-৬০ হাজার টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেছেন বলে জানা গেছে। যা স্কুলে সরেজমিনে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলে অভিভাবকরা জানান।

স্কুলের নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি, পরীক্ষার ফরম পূরণ, বার্ষিক পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি’ আদায় করেন তিনি। সরকার কোচিং পড়ানো নিষিদ্ধ করলেও প্রধান শিক্ষকের সেল্টারে স্কুলে কোচিং পড়ানোন অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান স্কুলের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে আগত দান-অনুদানও আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকেন।

বিগত রোজার আগে স্কুলে ফ্যান ক্রয়ের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি পর্যন্ত কোন ফ্যান স্কুলে ঝুলেনি। এনিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সরকারি স্কুল হিসেবে তিনি কখনো এই টাকা তুলতে পারেন না। এটি একটি অনিয়ম।

সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনার জম্ম দেন, তিনি গত ১১/০৭/১৭ইং তারিখে সপ্তম শ্রেণীর ইংরেজি পরীক্ষা চলাকালে। সেদিন পরীক্ষা এক ঘন্টা চলার পর হঠাৎ কোন প্রকার নির্দেশনা ছাড়াই প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান একটি গাইডের পাতা ফটোকপি করে দেন এবং এখান থেকে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের বাধ্য করেন (প্রশ্নপত্র ও গাইডের পাতা অত্র পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত আছে)। যা সরকারি নিয়মের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। বিষয়টি নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন হলেও ভয়ে কেউ প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

তাছাড়া উক্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান সব সময় উগ্র স্বভাবে থাকেন। কোন ভদ্রলোক, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক স্কুলে গেলে তাঁর কাছে সামান্যতম সৌজন্যবোধ টুকুও পাননা। প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানের এমন কর্মকান্ডে হতবাক স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সরকার যেখানে শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে সেখানে আবদুল মান্নানের মতো প্রধান শিক্ষকরা গুরুত্ব দেয় টাকার প্রতি। টাকা পেলে এমন কোন কাজ নেই যে তিনি করেন না। অনেক সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশও তিনি মানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। যার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও তার উপর ক্ষুব্দ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নানের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন টাকা তিনি তুলেননি। এ সময় তিনি বলেন, আপনি আগামীকাল স্কুলে এসে তদন্ত করেন এবং যাওয়ার সময় আমার সাথে স্বাক্ষাত করে যাবেন।

শিক্ষার্থীদের গাইডের পাতা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা আমার বিষয় নয়। শ্রেণী শিক্ষক বিষয়টি দেখে থাকেন। আমি কেন গাইড দিতে যাবো।

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদা খানমের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি স্কুলের সভাপতি হলেও প্রধান শিক্ষক অনেক কিছুই আমাকে জানান না। উনার অনেক অনিয়মের খবর অভিভাবকরা আমাকে অবহিত করেছেন। কেউ অনিয়মে জড়িত থাকলে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০