
বিশেষ প্রতিনিধি :
টানা চারদিনের ভারী বর্ষণে নোয়াখালীতে অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাতিয়ার সাথে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকে নোয়াখালীতে লাগাতার ভারী বর্ষণ শুরু হয়। চারদিন ধরে সূর্যের আলো দেখা যায়নি নোয়াখালীতে। মূষলধারে বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক, হাসপাতাল রোড, ফ্লাট রোড, বড় মসজিদ রোড, নতুন বাসস্টান্ড রোড, কলেজ রোড, বেগমগঞ্জ, হাতিয়া, কবিরহাট, সেনবাগ, সুবর্ণচর, সোনাইমুড়ি, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলা সদর, পর্যটন এলাকা নিঝুমদ্বীপ হাটু পানিতে নিমজ্জিত।
হাতিয়া থেকে মোজাক্কের বারি জানান, টানা বর্ষণ ও বঙ্গোপসাগরের অববাহিকার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিঝুমদ্বীপে কখনো কখনো কোমর পরিমাণ পানিতে তলিয়ে গেছে। সেখানে অনেক পর্যটক আটকা পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে তিনি জানান। বন্যার পানিতে বিভিন্নস্থানের বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে জনপদেও পানি ঢুকে গেছে।
এদিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হিরণ জানান, বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় মূলত এই এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এলাকার খাল-বিলগুলো অবৈধ দখলদাররা দখল করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এই অঞ্চলে পানি জমে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর বাসিন্ধা হাজী রেজাউল হক চৌধুরী জানান, গত বন্যাতে আমার বাড়ির সামনের রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা এলাকাবাসী মিলে নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করে রাস্তাটি মেরামত করি। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আবারো রাস্তাটি পানি জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই কথা জানিয়েছেন আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের একাব্বরপুর গ্রামের বাসিন্ধা নজরুল ইসলাম টিপু।
বৃহস্পতিবার নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার জানান, সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। অবৈধ খাল ও নালা দখলের কারণে কৃত্রিম বন্যা দেখা দিলে অবশ্যই তা অপসারণ করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) অফিসারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।