অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :
কেজিতে ৩০ টাকা বেশি দামে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ায় ব্যবসায়ীকে নগদ ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে ৬০ ব্যারেল ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় অভিযানকালে মেসার্স আবুল খায়ের ট্রেডার্সকে জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ বিভাগ) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।
আমার সংবাদকে তিনি বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। তারই অংশ হিসেবে আমরা এখানে এসে দেখতে পাই প্রতিষ্ঠানটি খোলা সয়াবিন তেল ১৪৩ টাকা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০ টাকা বেশি অর্থাৎ ১৭৩ টাকায় বিক্রি করছে। এখানে ৬০ ব্যারেল বা প্রায় ১২ হাজার লিটারের বেশি তেল মজুদ আছে। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে আইন অনুযায়ী ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছি।’
অভিযানের আগে ভোক্তা অধিকারের একজন প্রতিনিধি ক্রেতা সেজে দোকানটিতে খুচরায় তেল কিনতে যান। তখন তারা ১৭৬ টাকা দাম চায়। ক্রেতা রসিদ চাইলে তারা জানায়, রশিদ দিয়ে মাল বিক্রি হবে না। পাইকারি বিক্রি করছিল ১৭৩ টাকা। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দাম ১৪৩ টাকা। সে হিসেবে প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছিল। এরপর অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয় এবং আড়তটি সিলগালা করে দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করার বিষয়ে অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
তবে এভাবে দোকান সিলগালা করে দেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন দোকানের মালিক। ডিলারদের দোষারোপ করে তিনি বলেন, আমরা ডিলারদের কাছ থেকে রসিদ দিয়ে মাল কিনতে পারছি না। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। রশিদ চাইলে ডিলাররা মাল দেয় না। আমাদের কিছু করার নেই, কেনা বেশি তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। ‘আমরা প্রতি লিটার ১৭১ টাকা ৮৯ পয়সায় কিনে আনি। পাইকারিতে ১৭২ টাকা এবং খুচরা ১৭৩ থেকে ১৭৪ টাকা বিক্রি করি। আমাদের কি দোষ। দেশে তেল সাপ্লাই দেয় কয়টা প্রতিষ্ঠান, তা সবাই জানে। বড় জায়গায় ধরলে কোনো সমস্যা থাকবে না। আমাদের ধরে লাভ কি?’
প্রতিষ্ঠানটি তীর মার্কা এসব তেল মৌলভীবাজার থেকে নিয়ে এসেছে, সেখানেও অভিযান পরিচালনার কথা জানান ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা।
ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীরা ১ মার্চ থেকে লিটারে সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাফ জানিয়ে দেন, রোজার আগে দাম বাড়বে না। তিনি আন্তর্জাতিক বাজারের বাড়তি দামের উত্তাপ সহ্য করতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেন।
এর পরই ব্যবসায়ীরা বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য সরবরাহ কমানোর বিষয়টি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বলছেন, তাদের সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে। অবশ্য বাজারে সরবরাহ সংকট দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে দোকানিদের বিরুদ্ধে। এমনকি অনেকেই খোলা তেল বিক্রিও বন্ধ করে দিয়েছেন।