শুক্রবার ১৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশবাসীকে ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে সভাপতিত্বকালে সরকারপ্রধান বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় সাফল্য যে আমরা প্রতিটি ঘরে আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়েছি। এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে তার সরকার ইতোমধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। এখন একটাই লক্ষ্য দেশে কোন মানুষ আর গৃহহীণ বা ভূমিহীন থাকবে না।

একনেক চেয়ারপারসন বলেন, জাতির পিতার পদাংক অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট।

তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল (সোমবার) আমরা দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন এবং শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছি।

সরকার প্রধান বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘদিন ধরে সরকার পরিচালনা করায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা এ ধরনের সাফল্যের আরেকটি কারণ।

প্রধানমন্ত্রী বারবার তার দলকে ভোট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

জনগণের কাছে তার অঙ্গীকার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তার সরকারের বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি প্রদানের প্রসঙ্গ ও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মেঘনাঘাট ৪৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট বেসরকারি খাতে নির্মিত প্রথম পাওয়ার প্ল্যান্ট। তিনি বলেন, ইউএস-ভিত্তিক এইএস (অ্যালাইড এনার্জি সিস্টেম) প্লান্ট গুলো স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ২০০১ সালে তার দল ক্ষমতায় না আসায় পদক্ষেপ গুলো বাস্তবায়ন করা যায় নি।

’৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় দেশে মাত্র ১৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, তার সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় সেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট করে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী ৫ বছরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ১ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনতো বাড়াতেই পারেনি বরং কমিয়ে ফেলে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেখতে পান দেশের তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কমে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎকে শিল্পায়নের চালিকা শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অনেক চর এলাকায় নদী এবং সাগরের তলদেশ দিয়ে যেমন সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। যেখানে গ্রিড লাইন নাই সেখানে সোলার প্যানেল দিয়ে যেমন বিদ্যুৎ দিয়েছি তেমনি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে মূল বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। যাতে সেখানে শিল্পায়ন হতে পারে।

তিনি সন্দ্বীপের উদাহারণ টেনে বলেন, সেখানে প্রথমে আমরা সোলার প্যানেল দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের পর সাবমেরিন কেবল দিয়েও বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। চর কুকরী মুকরী, রাঙ্গাবালীতেও আমরা সেভাবে দেয়া শুরু করেছি।

এক সময় দক্ষিণাঞ্চল অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সরকার পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা বন্দর, সেনানিবাস, সড়ক ও মহাসড়ক ইত্যাদি নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়ন করেছে যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা করবে।

প্রধানমন্ত্রী প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় এ অঞ্চলে সবাইকে বেশি করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার এবং কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ তৈরির আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রকৃতির প্রতিশোধ খুব কঠিন, কাজেই প্রকৃতি কীভাবে এটা করে সেটা আমি নিজের চোখেই দেখেছি বহুবার। তারপরও আমি বলবো মানুষের সুরক্ষার যে বিষয়, সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি এবং গতকাল আমি বলেছি সবাই গাছ লাগাবেন। যে দায়িত্বটা আমাদের কৃষকলীগের ওপর ন্যস্ত থাকে তাদেরই উদ্যোগে আষাঢ় মাসে সারাদেশে বৃক্ষরোপন করা হয়।

তিনি বলেন, ১৯৮৪-৮৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি নেয়া হয়। যদিও সে সময় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের বিষয়টা তেমন ভাবে আলোচনায় ছিলনা। তারপরও তার দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে দিয়ে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের যে পদক্ষেপ তারই অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব কৃষকলীগের ওপর বর্তায়।

পদ্মা সেতু চালু হয়ে গেলে এক সময়কার চরম দুর্দশাগ্রস্থ দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের জীবন মান আরো উন্নত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ভোজ্যতেল আমদানি কমিয়ে উৎপাদনে যেতে হবে। সয়াবিন চাষ করতে হবে। আমদানি কমিয়ে দেশে উৎপাদনে যেতে হবে। সয়াবিন ও সূর্যমুখী চাষ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বীজ বর্ধন খামার স্থাপন প্রকল্পটি’ ৪৩৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় বাদামসহ তেল বীজ উৎপাদনে যেতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

রেলে নিয়োগের কোটা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, আবহমান কাল ধরে তারা ইনজয় করে এসেছে। রেলের লোকজন কাজ করে কিছু কোটা পায়। এ সম্মানটা দিলে তারা সম্মানিত হয়। রেলে যারা চাকরি করে তাদের পরিবারের জন্য চাকরিতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কোটা সুবিধা দেওয়া যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১২টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, ফেনী অঞ্চলে বাদাম ভালো হয়। যেখানে তেল বীজ উৎপাদন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সয়াবিন, সরিষা, তিল এবং চীনাবাদামসহ তেল বীজ উৎপাদনে যেতে হবে। প্রয়োজনে এটা আরও গবেষণা করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১