এক্সক্লুসিভ ডেস্ক :
বান্ধবীকে বিয়ে করতে নোয়াখালীর বিলকিস চলে এসেছে টাঙ্গাইলের বাসাইলের আঁখির বাড়িতে। তারা একসঙ্গে সংসার করতে চায়। তাদের এমন প্রেম নিয়ে টাঙ্গাইলে শুরু হয় তোলপাড়। তবে ইতিমধ্যে বিলকিসকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদে দুইটি পরিবারের অভিভাবকের লিখিত রেখে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় দুই তরুণী কান্নায় ভেঙে পড়ে।
এর আগে রোববার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রেমের টানে নোয়াখালীর তরুণী সংসার করতে চলে আসে টাঙ্গাইলের তরুণী প্রেমিকার বাড়িতে। এরপর বিষয়টি নিয়ে বাসাইল উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবার পড়েন বিপাকে।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালীর বিলকিসের সঙ্গে পরিচিত হয় টাঙ্গাইলের আঁখির। সেই থেকেই ফেসবুক মেসেঞ্জারে নিয়মিত যোগাযোগ হতো তাদের। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের টানে তারা প্রায় দুই মাস আগে ঢাকার সাভারে এক আত্মীয়ের বাসায় রাত্রিযাপনও করেন।
এরপর সেখান থেকে আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তারা সিরাজগঞ্জের চৌহালী গিয়ে রাত কাটায়। সেখানে স্থানীয়দের দুই কিশোরীর আচরণ সন্দেহজনক হলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুই পরিবারের কাছে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়।
সর্বশেষ রোববার (২০ মার্চ) তাদের দুজনের ফোনে কথা হয়। এরপর সন্ধ্যায় নোয়াখালীর বিলকিস টাঙ্গাইল চলে আসে। পরে বাসাইল থেকে গিয়ে তাকে নিয়ে আসে অপর তরুণী। ওই রাতেই তাদের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তাদের দেখতে দলে দলে লোকজন বাড়িতে ভিড় জমান। এই দুই তরুণীর সংসার করার সিদ্ধান্তে তরুণীদের স্বজনরাও হতভম্ব।
নোয়াখালীর তরুণী বলেন, আমি ওকে ভালোবাসি, তাই চলে এসেছি। আমি আমার ফ্যামিলিকে বলেছিলাম, ওর কাছে যাব, কিন্তু ওনারা রাজি হয়নি। তারা আমাদের সম্পর্ক মানবে না, তাই বাড়ি থেকে নিরুপায় হয়ে পালিয়ে এসেছি। এখন ওর পরিবার না মানলে আমরা দুজনে অন্য কোথাও গিয়ে বসবাস করব।
টাঙ্গাইলের তরুণী বলেন, ওকে নিয়ে আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম। আমরা ঢাকায় দেখা করেছি। ঢাকায় আমাদের ফ্যামিলি গিয়ে আমাদের আলাদা করে নিয়ে এসেছে। আমার ফোন নিয়ে নিয়েছিল। কয়েক দিন পর ফোন ফেরত দেয়। তখন আবার আমরা কন্টাক্ট করে ওকে আমার বাসায় নিয়ে এসেছি। সামাজিকভাবে আমাদের মানবে না, কিন্তু আমি ওর সঙ্গেই থাকতে চাই। বাঁচলেও ওর সঙ্গে, মরলেও ওর সঙ্গে। পুলিশ বা তারা যদি আমাদের মেরে ফেলতে চায়, তাহলে দুজনকে একসঙ্গেই মারবে। আর যদি বাঁচিয়ে রাখতে চায়, তাহলে দুজনকেই রাখতে হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, বাংলাদেশে সমলিঙ্গের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকৃত নয়। দুই তরুণীর অযৌক্তিক দাবি মেনে নেয়ার মতো না। খুব দ্রুত দুই মেয়েকেই পৃথক করা প্রয়োজন। তাদের অপরিণত চিন্তা এবং অবান্তর সিদ্ধান্তের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে তাদের স্বাভাবিক নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
টাঙ্গাইলের তরুণীর বাবা বলেন, আমি দেড় মাস বয়সে তাকে পালক নিয়ে আসি। ও আমার আদরের একমাত্র সন্তান। তার কাজে আমি খবুই কষ্ট পেয়েছি। নোয়াখালীর ওই মেয়েটিকে তার বাড়িতে চলে যেতে বলছি, সে যাচ্ছে না। সে কিছুতেও আমার মেয়েকে ছাড়া যাবে না। পরে তার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে তারা এখানে আসবে না বলে আমাকে জানায়। প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়।
বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল আলম বিজু বলেন, ইউএনও মহোদয় আমাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব দেন। পরে দুই কিশোরীর অভিভাবকের সঙ্গে বৈঠকে বসা হয়। সেখানে অভিভাবকদের মুচলেকা রেখে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই দুই কিশোরী যাতে আর যোগাযোগ করতে না পারে সে ব্যাপারে তাদের পরিবারকে নির্দেশ নেওয়া হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, নোয়াখালীর ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই কিশোরীর পরিবারকে খুঁজে বের করা হয়। এরপর ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাদের অভিভাবকদের লিখিত রেখে দুই কিশোরীকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।