আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট খারিজ করেছেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান। একইসঙ্গে এটিকে সংবিধানের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থি হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।। এতে পার্লামেন্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। ইমরানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট।
রোববার (৩ এপ্রিল) অধিবেশন শুরুর পরপরই অনাস্থা ভোট খারিজ করেন স্পিকার। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, সংবিধানের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের প্রতি আনুগত্য প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য। তিনি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের করা আগের দাবিগুলোর কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পদক্ষেপের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল।
বক্তব্যে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গত ৭ মার্চ আমাদের সরকারি রাষ্ট্রদূতকে একটি বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যেখানে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে।’
এদিকে, অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট শুরু হওয়ার আগে বিক্ষোভ, জমায়েত বন্ধ করতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বাইরেও।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রাশিদ আহমেদ দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট রোববার (৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপি-সহ বেশিরভাগ বিরোধীদল এই অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ছিল। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট ৩৪২টি আসন রয়েছে, তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল। অনাস্থা প্রস্তাবের মধ্যে ইমরানের জন্য দুঃসংবাদ ছিল তার নিজের দল তেহরিকে ইনসাফ পার্টি থেকে ১৭ জন এমপি বিরোধীদলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
গত ৮ মার্চ পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে বিরোধী দলগুলো। গত ২৮ মার্চ জাতীয় পরিষদে আলোচনার জন্য অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ প্রস্তাব নিয়ে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। বিধি অনুযায়ী, প্রস্তাব উত্থাপনের পর আলোচনা শুরু করতে ন্যূনতম তিন দিন থেকে সর্বোচ্চ সাত দিন সময় নেওয়া যায়।