আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, মে মাসের শুরুর দিকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস ও অন্যান্য অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দিকে মনোযোগ তাদের। যে কারনে ইউক্রেনে যুদ্ধ কৌশল সংশোধন করেছে রাশিয়া।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন শুরু হওয়া আক্রমণের পর যুদ্ধের এক মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু যেসব এলাকায় লড়াই করছে সেখানে পুরপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি রুশ স্থল বাহিনী। যার কারনে কিছুটা ইমেজ সংকটে রয়েছেন পুতিন।
বিশ্বকে একটি বিজয় দেখানোর জন্য চাপের মধ্যে আছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পূর্ব ইউক্রেনে সেই সম্ভাবনা থাকায় সে দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন তিনি।
গোয়েন্দা তথ্যের উল্লেখ করে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ৯ মে রাশিয়ার ‘বিজয় দিবস’কে সামনে রাখে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন পুতিন।
রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ছুটির এ দিনটিতে ক্রেমলিনের সামনে রেড স্কয়ার জুড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি আত্মসমর্পণকে স্মরণ করে বিশাল কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, পুতিন সেদিন চলমান যুদ্ধের যে কোনোরকম বিজয় উদ্যাপন করতে চান।
তবে অন্য কর্মকর্তারা মনে করেন, রাশিয়ান সে দিন বিজয় উদ্যাপন করলেও ‘প্রকৃত বিজয়’ পেতে আরও দেরি হতে পারে।
একজন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধ বা শান্তি আলোচনা যাই ঘটুক ৯ মে পুতিনের বিজয় কুচকাওয়াজ হবে।
মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, মস্কো রূপক হিসেবে সে সময়সীমা নির্ধারণ করুন না কেন তা বাস্তবতাকে পরিবর্তন করবে না। বরং রাশিয়া একটি বর্ধিত সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, পুতিন চেচনিয়ার মতো দীর্ঘ ও টানা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভূ-প্রাকৃতিকভাবে মে মাস যুদ্ধে বেশ প্রভাব রাখবে। এ সময় শীতের বরফ পড়া শেষ হবে ও মাটি নরম হবে। তখন স্থল বাহিনীর ভারী বহন নিয়ে এগোনো কঠিন হবে। তাই তার আগেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছানো অত্যাবশ্যক। এ ছাড়া রাশিয়া-সমর্থিত যোদ্ধারাও কয়েক বছর ধরে ওই অঞ্চলে রয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী ২০১৪ সাল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে।