মঙ্গলবার ৫ই মে, ২০২৬ ইং ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
চন্দ্রগঞ্জে খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন চন্দ্রগঞ্জে যুবদলের কর্মী সম্মেলনে নুর হোসেন হারুন সভাপতি পদে এগিয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী সম্মেলন কাল : সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রিপন চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষকদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

ইফতার পর্যন্ত বাঁচতে চাওয়া সেই মোরশেদ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

আকাশবার্তা ডেস্ক : 

ঘরের জন্য ইফতার কিনতে গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে জনসম্মুখে এলোপাথাড়ি কোপানো এবং গুলি করার সময় ইফতার পর্যন্ত বাঁচতে চাওয়া কক্সবাজার সদরের মোরশেদ হত্যায় অভিযুক্ত ৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদেরকে শুক্রবার ভোরে সেহেরীর সময় টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন র‌্যাব-০৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল এমএ ইউসুফ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোহাম্মদ আলী ও তার ভাই মাহমুদুল হক (৫২), আবদুল্লাহ (৩০), আব্দুল আজিজ (২৮), নুরুল হক (৫৩)। এদের মধ্যে নুরুল হক সন্দেহভাজন বলে জানায় র‌্যাব। অপর চারজন এজাহার নামীয় আসামি।

র‌্যাব সাংবাদিকদের জানান, গত ৭ এপ্রিল বিকেলে সাড়ে ৪টায় কক্সবাজার সদর থানাধীন চেরাংঘর স্টেশনের তরকারীর দোকানের সামনে কতিপয় দুস্কৃতিকারী দা, চোরা, হাতুড়ি, কিরিচ, লোহার রড, বন্দুক ও লাঠি দিয়ে জনসম্মুখে নির্মম ও নৃশংসভাবে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে মোরশেদ আলীকে (৪০) উপর্যুপরি আঘাত করে চলে যায়। হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত অপরাধী হওয়ায় কেউ তাদের বাঁধা দিতে আসেনি।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা মুমূর্ষু মোরশেদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই জাহেদ আলী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

জানা গেছে, ভিকটিমের পরিবারের লোকজন পিএমখালী ইউনিয়নের ১০ নং পানি সেচ স্কিম পরিচালনা করে আসছিল। খুনীরা অন্যায়ভাবে জোর পূর্বক ১০ নং পানি সেচ স্কিম নিজেদের দখলে নিয়ে চাষীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবীসহ অন্যায় অত্যাচার করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে থাকার কারণে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন উক্ত স্কিম ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকলে আসামীরা তাদের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে।

মোরশেদ আলী দুস্কৃতিকারীদের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি বিভিন্ন সময় পথে ঘাটে আক্রমণ করতে গেলে স্থানীয় উপস্থিত লোকজনের কারণে সফল হয় নাই।

যেভাবে মোরশেদকে হত্যা করা হয়-
ঘটনার দিন মোরশেদ বাড়ি হতে বের হয়ে ইফতার সামগ্রী কিনার জন্য কক্সবাজার সদর থানাধীন চেরাংঘর ষ্টেশনের তরকারীর দোকানের সামনে পোঁছালে দুস্কৃতিকারীরা দুই দিকের রাস্তা বন্ধ করে মোরশেদকে মাটিতে ফেলে প্রথমে ধারালো কিরিচ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় গুরুতর জখম করে। এরপর আসামী আবদুল্লাহ (৩০) এবং আব্দুল আজিজ (২৮) লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মোরশেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করলে মোরশেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আসামী মাহমুদুল হক ধারালো কিরিচ দিয়ে মোরশেদ আলীর ডান হাতে কোপ দিয়ে হাত থেকে কব্জি প্রায় বিছিন্ন করে ফেলে। আসামী মোহাম্মদ আলী (৪৫), মোরশেদ আলীর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য হাতুড়ি দিয়ে অন্ডকোষে উপুর্যপুরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

বাজারের লোকজন ভিকটিম মোরশেদকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে আসামী মোহাম্মদ আলী আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। উপস্থিত লোকজন ঘটনার ভিডিও করতে গেলে আসামীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। রোজাদার মোরশেদ আলী ইফতার পর্যন্ত বাঁচার আকুতি জানালেও আসামীরা তাকে বাঁচতে দেয়নি।

র‌্যাব আরও জানায়, আসামী মাহমুদুল হক ছিল এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনাকারী। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মদদদাতা ছিলেন মাহমুদুল হকের ভাই নুরুল হক। তাদেরকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মে ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১