আকাশবার্তা ডেস্ক :
পরিবারের তিন ছেলের সর্বকনিষ্ঠ শাকিল তালুকদার। মা বাবার স্বপ্ন বড় দুই ভাইকে নিয়ে তবে ব্যর্থ হয়েছে তারা। শেষ ভরসা শাকিল। স্বপ্ন পুরণ করতে সক্ষম হয়েছে ২০ বছরেই। কিন্তু তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল বৃদ্ধ মা বাবার জিবনের শেষ ইচ্ছাগুলো।
ইচ্ছা ছিল এই ঈদেই ছেলেকে পছন্দের পাত্রীর সাথে বিয়ে দিবে বাবা। বসে বসে নতুন বউয়ের হাতের রান্নার স্বাদ গ্রহণ করবে মা। কিন্তু স্বপ্নের শাকিল তো আজ লাশ হয়ে ফিরলো খুলনার বাটিঘাটার শুকদারা গ্রামে।
মঙ্গলবার সাড়ে ১১ টায় ফায়ার সার্ভিসের হেড কোয়ার্টারে জানাযা হয় সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিনির্বাপণকালে বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনায় নিহত শাকিল তালুদারের। জানাযায় উপস্থিত হয়ে শাকিলের বড় ভা্ই নিরুজ্জামান অশ্রুশিক্ত কন্ঠে ভাই হারার বেদনা প্রকাশ করেন গণমাধ্যমে।তিনি বলেন,সবার কনিষ্ঠ শাকিল আমারা কেউ তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছিনা।
মা বাবা বেঁচে আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মা বাবা বেঁচে আছে কিন্তু এই বেদনা কেটে উঠতে পারবে কিনা জানি না! তারাতো পাগলের মতো প্রলাপ করছে। আমাদের পুরো পরিবারটা নির্ভর করছিল তার উপর। মাত্র ২২ বছর বয়সে পরিবারের হাল ধরেছিল শাকিল । আজ আমরা অসহায় হয়ে গেলাম। বাবার ইচ্ছে ছিল এই ঈদেই বিয়ে করাবে তাকে কিন্তু আজ শাকিলের লাশ উপহার দিতে হচ্ছে বাবাকে।
সরকার কাছে চাকরির দাবি করে বড় ভাই মনিরুজ্জামান বলেন, অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবি। আমার মেঝো ভাই ফায়ার সার্ভিসের ফ্রিলান্সার হিসেবে কর্মকরত তাকে যেন রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়।
জানা যায়, মোঃ শাকিল তরফদার(২২) ২০০০ সালের ৩ জুলাই খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানার শুকদারা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর বাবার নাম সাত্তার তরফদার এবং মায়ের নাম জেসমিন বেগম ।শাকিল ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেয় । কর্মজীবনের প্রতিটি সময় তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতো সে । সবশেষ কুমিরা ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিল । গত ৪ জুন দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিনির্বাপণকালে বিস্ফোরণজনিত দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করে শাকিল।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, কোস্টগার্ডের প্রধানসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।