শিক্ষা ডেস্ক :
করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে কিছুটা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আবারও দেশের ১০ জেলায় ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের ৬৪টি উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় এসএসসির পর এবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান দুটি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক আতাউর রহমান।
এদিকে আজ (১৯ জুন) থেকে সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সিলেটসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় বন্যার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে ২০ লাখ ২১ হাজার এসএসসি পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
অপরদিকে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এখন সব পরীক্ষার্থীর মনে একটাই প্রশ্ন কবে থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এদিকে এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা কবে হবে তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে অভিভাবকরা পরে গেছেন বড় সমস্যায়।
তারা বলছেন, বাচ্চারা পড়াশোনা করতেই চায় না। সারাক্ষণ তারা ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত। তবে বন্যার করাণে পরীক্ষা বন্ধ হওয়ায় এই সমস্যাটা আবারো প্রকোট হয়ে উটবে বলে তাদের শঙ্কা।
গতকাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সালের বিএড অনার্স প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার এবং ২০২০ সালের বিএড অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। এই দুটি পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি পরে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার বলেন, দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আগামী ১৯ জুন শুরু হতে যাওয়া সব শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি জেনারেল, এসএসসি ভোকেশনাল এবং দাখিল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট পাঁচটি বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বন্যার কারণে আক্রান্ত হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, কিছু বোর্ডের পরীক্ষা হবে, কিছু বোর্ডের পরীক্ষা হবে না— এতে একটি অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হয়, আর আমাদের ফল তো একসাথেই দিতে হবে। তাই সম্মিলিত সিদ্ধান্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করে দেবো। এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন এবং দাখিলে দুই লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন ও কারিগরিতে এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৬২ জন। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ২২ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৪ জন। এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছরের চেয়ে প্রায় সোয়া দুই লাখ পরীক্ষার্থী কমেছে। এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারা দেশের ২৯ হাজার ৫১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তিন হাজার ৭৯০টি কেন্দ্রে এসএসসি, দাখিল এবং এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা।