শনিবার ২৮শে মার্চ, ২০২৬ ইং ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ক্যারিবিয়ান ৫ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরানোর স্পিনার তাইজুল ইসলামের উল্লাস।

উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করতে প্রয়োজন ১৭৯ রান

স্পোর্টস ডেস্ক :

গায়ানায় সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আজ টাইগার বোলারদের নান্দনিক বোলিং অ্যাকশনের সামনে ৪৮.৪ ওভারে ১৭৮ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকদের ইনিংস। এ ম্যাচ জিততে টাইগারদের করতে হবে ১৭৯ রান। শনিবার শরিফুলের পরিবর্তে স্পিনার তাইজুল ইসলামের ওপর ভরসা রাখেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তামিমের সেই ভরসাকে ম্লান হতে দেননি এই বাঁ-হাতি স্পিনার। ১০ ওভার বল করে ২ মেডেনসহ ২৮ রানে ৫ উইকেট তোলে নেন এ স্পিনার। নাসুম আহমেদ ৩৯ রানে ২টি এবং মোস্তাফিজুর রহমান ২৪ রানে ২ উইকেট তোলে নেন। অপর উইকেটটি লাভ করেন মোসাদ্দে হোসেন সৈকত। তিনি ২৩ রান দিয়েছেন।

শনিবার বল হাতে এসে প্রথম বলেই তাইজুল ইসলাম তুলে নিয়েছেন স্বাগতিকদের প্রথম উইকেট। দলীয় ৯ রানের মাথায় তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে উদ্বোধনী ব্যাটার ব্র্যান্ডন কিংকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে আরেক ওপেনার শাই হোপকে ফিরিয়েছেন স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে। ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে মোস্তাফিজের কাটারে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শামার ব্রুকস। এরপর অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ও কেসি কের্টি মিলে ধীরে ধীরে প্রতিরোধ বুহ্য গড়ে তোলেন।

এই দুই ক্যারিবীয় ব্যাটার মিলে ৬৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ইনিংসে ২৭ ওভারের পঞ্চম বলে নাসুম আহমেদকে ছক্ক হাঁকাতে গিয়ে তামিম ইকবালের হাতে তালুবন্দি হন কেসি কের্টি। আউট হওয়ার আগে ২ চার ও ১ ছক্কার সাহায্যে ৬৬ বলে ৩৩ রান করেন কেসি। অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ১০৯ বল মোকাবিলা করে ৭৩ রান করে তাইজুলের বলে বোল্ড আউট হন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আজ টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এক পরিবর্তন নিয়ে শনিবার মাঠে নেমেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পেসার শরিফুল ইসলামের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সেই ২০২০ সালের মার্চে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন তাইজুল ইসলাম। এরপর কেটে গেছে একে একে ২৮টি মাস। রঙিন জার্সি আর গায়ে জড়ানো হয়নি তার।

তার সে অপেক্ষা আজ যখন শেষ হলো, প্রত্যাবর্তনের মঞ্চটা দারুণভাবেই রাঙালেন বাঁহাতি এই স্পিনার। প্রথম বলেই উইকেট দিয়ে শুরু করেছিলেন। ১০ম ওভারে এসে পাঁচ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন তিনি। এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনবার হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব অর্জন করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর পাশাপাশি ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তৃতীয় হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পাবে টাইগাররা। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুইবার হোয়াইটওয়াশ করেছে।

সর্বশেষ ১০ ম্যাচ ধরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে অপরাজিত টাইগাররা। এর মধ্যে সিরিজ জিতেছে দুইটি। ত্রিদেশীয় সিরিজের তিন ম্যাচের তিনটিতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৯ সালে আইসিসি বিশ্বকাপেও ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের আজ হোয়াইটওয়াশ করলে টাইগারদের ইতিহাসে ১৫তম হোয়াইটওয়াশের মাইলফলক অর্জন হবে। ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছয় দেশকে ১৪ বার হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ।

এই দেশগুলোর মধ্যে জিম্বাবুয়েকে ৬ বার, কেনিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডকে ২ বার করে এবং পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে একবার করে হোয়াইটওয়াশ করেছে সাকিব-তামিমরা। বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ২০০৫-০৬ সালে কেনিয়াকে ৪ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে সব ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। এরপর ২০০৬ সালে আবারো কেনিয়াকেই হোয়াইটওয়াশ করেছে। তবে এই সিরিজটি ছিল ৩ ম্যাচের। এই বছরের শেষদিকে ৫ ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের সব ম্যাচে জয়লাভ করেছে।

২০০৭-০৮ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ হোয়াইটওয়াশের আনন্দ পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পরের বছর ৩ ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পায় টাইগাররা। এরপর ২০১৫ সালের মধ্যে জিম্বাবুয়েসহ নিউজিল্যান্ডকে ২ বার ও পাকিস্তানকে সিরিজের সব ম্যাচে হারায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর আরো ৫টি হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। যেখানে ২০২০-২১ বর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করেছে। বাকি চারটি ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১