বলিউড দম্পতি সাইফ-কারিনার সন্তান তৈমুর আলী খান পতৌদি। আর এই ‘বিতর্কিত’ নামের জন্য জন্মের কয়েক ঘণ্টার মাঝেই তৈমুর হয়ে ওঠে তারকাদের তারকা।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে ভারতের মুম্বাই শহরের একটি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করে তৈমুর। সঙ্গে সঙ্গেই বাবা সাইফ ও মা কারিনা একটি লিখিত বিবৃতিতে ছেলের জন্মের খবর সবাইকে জানান। তবে ছেলের নাম রাখা নিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন এই দম্পতি।
সাইফিনা দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘দুর্ধর্ষ স্বৈরাচারী’ শাসক তৈমুর লংয়ের নামের সঙ্গে মিল রেখে ছেলের নাম রেখেছেন তারা। বর্তমান আফগানিস্তান, ইরান, সিরিয়া, বাগদাদ ও জর্জিয়ার এক বিরাট অংশে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেনন তৈমুর লং।
অপরদিকে, তৈমুর নামটির সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ভীষণভাবে জড়িত। তার বংশধর হলো তিন শতাব্দী ধরে ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করা মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবর। অভিযোগ রয়েছে, ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে দিল্লি দখলের অভিযানে হাজার হাজার ভারতীয়কে হত্যা করেন তৈমুর।
সাইফিনার বিবৃতিতে নবজাতকের নাম ঘোষণার পর আশিস মহারিশি নামের এক ব্যক্তি টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘তৈমুর আরবি নাম নয়। এটা তুর্কি ভাষা। এর অর্থ হলো লোহা বা শক্তিশালী কেউ।’
টুইটার ব্যবহারকারীদের অনেকের মন্তব্য– তৈমুর ছিলেন সবচেয়ে বর্বর ও হিংস্র খুনিদের একজন। ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণকারী তিনিই। কীভাবে এমন নাম রাখা হলো? কেউ বিদ্রুপ করে বলেছেন, ‘২০৩৭ সালে কোনও ছেলে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে নিকে তৈমুর আলী খান পতৌদি বলে পরিচয় দিলে মেয়েরা আগেভাগে জানিয়ে দেবে আমার প্রেমিক আছে!’
আবার কারও মতে, নবাব মর্যাদাকে একটু বেশিই গুরুত্ব দেন বলে এমন নাম বেছে নিয়েছেন সাইফ ও কারিনা।
অনেকে আবার তৈমুর নামের সঙ্গে ওসামা বিন লাদেন ও পাকিস্তানি মিসাইলকে তুলনা করে তাচ্ছিল্য করেছে টুইটারে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের একটি মিসাইলের নাম ‘তৈমুর’।
আবার কারও মন্তব্য ছিল– নবজাতকের নাম ভারতে ‘তৈমুর’, আমেরিকায় ‘ওসামা বিন লাদেন’ আর ইউরোপে ‘হিটলার’ রাখা একই কথা!
তবে যে যা-ই বলুক না কেন, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের জোয়ারে সাইফিনা পুত্র তৈমুর যে জন্মের পরপরই সেলিব্রিটি বনে গেছেন, তা অস্বীকার করার জো নেই।
সূত্র: এনডিটিভি।