অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক :
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তবে, লোডশেডিং আগের চেয়ে কমেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীতে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেল-গ্যাস আমদানির কোনো কমফোর্ট জোন পাচ্ছি না। এজন্য আপাতত দাম কমছে না। তবে লোডশেডিং কমেছে। এখন দিনে ৫০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন হঠাৎ জাতীয় গ্রিডে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে সেটা চট করে বলা যাবে না। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তাদের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
দেশে চলমান লোডশেডিংয়ের বিষয়ে নসরুল হামিদ বলেন, লোডশেডিং আগের চেয়ে কমেছে। তবে এখনো দিনে ৫০০-৭০০ মেগাওয়াট হচ্ছে।
জাতীয় গ্রিড বিপর্যয় নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যকে ফালতু কথা বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব বাজে কথা। রাজনৈতিক লোকদের টেকনিক্যাল বিষয়ে কথা বলা ঠিক নয়। তাদের সময় বিদ্যুতের কোনো উৎপাদনই ছিল না।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘসূত্রতা ও কোভিড পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে যায় বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের অনেক কাজ। এখনও বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নিরবচ্ছিন্ন গ্রিড পেতে প্রায় দুবছরের মতো সময় লাগবে। সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে। এছাড়া সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সোলার বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ থেকে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
গত ২৮ আগস্ট ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো হয়। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৯ টাকা, অকটেন ১৩৫ টাকা ও পেট্রোল ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আগস্টের ৫ তারিখ রাতে হঠাৎ ঘোষণায় বাড়ে জ্বালানি তেলের দাম। লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৬ টাকা দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়ে বাজারে। মুহূর্তেই বাড়তে থাকে সব পণ্যের দাম।