আকাশবার্তা ডেস্ক :
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুলহক নুর বলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে হুমকি দিচ্ছেন হাত ভেঙ্গে দিবেন, তার নেতাকর্মীরা যেভাবে ভয় দেখাচ্ছেন তা কোন সভ্য দেশের ঘটনা হতে পারে না। এসব করে পৃথিবীর কোন দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা যাবে না, বাংলাদেশের এই স্বৈরাচারের পতন অনিবার্য।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সুরক্ষার দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের আলোচনা সভা ও র্যালীতে তিনি এই কথা বলেন।
র্যালী শুরুর আগে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুলহক নুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, “আপনারা সরকারের কথায় মানবাধিকার লঙ্ঘন করবেন না। আজকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস, এই দিবসটি সারাবিশ্বে পালন করে অথচ বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার নাই।সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পথচারীদের মোবাইলে ফেসবুক, হোয়াসআ্যাপ,ও গ্যালারি চেক করছে।একাত্তর সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী মানুষকে উলঙ্গ করে দেখতো সে হিন্দু নাকি মুসলমান ঠিক একই কায়দায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষের মোবাইল চেক করে দেখছে, সে বিএনপি নাকি আওয়ামীলীগ করে, যা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন”।

নুর বলেন, “সরকার ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে আইসিইউতে আর মানবাধিকার কে লাইফ সাপোর্টে পাঠিয়েছে। গত ১৩ বছর ধরে সরকার বিরোধী দলের অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে তারপরও গণতন্ত্র কামী মানুষে লড়াই থামাতে পারে নাই। আইসিইউতে থাকা গণতন্ত্রকে সেবা করে সুস্থ করার জন্য গণতন্ত্রকামী আপসহীন মানুষদের সাথে নিয়ে আজকে মানবাধিকার দিবসেও রাজপথে নেমেছে তাই গণঅধিকার পরিষদ। আমরা আজকে আর্ন্তজাতিক দিবসে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ত্রাস সৃষ্টি করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
নুর আরও বলেন, আপনারা দেখেন বিএনপি ৯ টি বিভাগীয় সমাবেশ করেছে কোথাও তারা গাড়িতে একটা ঢিলও দেয়নি এমনকি বিন্দু পরিমাণ বিশৃঙ্খলা করেনি। এমন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ৫০ বছরে নেই।বিএনপি সারাদেশে বিভাগীয় সমাবেশ শেষ করে যখন ঢাকায় বিভাগীয় সমাবেশের ঘোষণা করেছে তখন সরকার নিজদের পতনের ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে সারাদেশে যুদ্ধের মত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সরকার অঘোষিত হরতাল ঘোষণা করে পরিবহন বন্ধ করে মানুষকে দূর্ভোগে ফেলেছে, কষ্ট দিচ্ছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে হুমকি দিচ্ছেন হাত ভেঙ্গে দিবেন, তার নেতাকর্মীরা যেভাবে ভয় দেখাচ্ছেন তা কোন সভ্য দেশের ঘটনা হতে পারে না। এসব করে পৃথিবীর কোন দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করা যাবে না, বাংলাদেশের এই স্বৈরাচারের পতন অনিবার্য।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ এর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন, ফারুক হাসান, মাহফুজুর রহমান খান, আবু হানিফ, মালেক ফরাজী, শহিদুল ইসলাম ফাহিম,সাদ্দাম হোসেন, শাকিলউজ্জামান, সহকারী আহ্বায়ক তামান্না ফেরদৌস শিখা, এডভোকেট এরশাদ সিদ্দিকী, যুগ্ম সদস্য সচিব আতাউল্লা, আব্দুজ জাহের, তারেক রহমান, মশিউর রহমান, জিলুখানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এসময় গণঅধিকার পরিষদ এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।