
বিশেষ প্রতিনিধি :
ভারীবর্ষণ ও উজানের পানিতে নোয়াখালীতে সৃষ্ট বন্যায় জেলার বিভিন্নস্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হলেও সরকারিভাবে তেমন কোনো বরাদ্দ নেই। কিছু কিছু এলাকায় সরকারিভাবে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা পরিমাণের তুলনায় অপ্রতুল। এতে করে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
গত একমাসের ভারী বর্ষণ ও উত্তরবঙ্গের বন্যার পানির তোড়ে জেলার উপকূলীয় এলাকাসহ অধিকাংশ এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। জেলার সর্বদক্ষিণের নিঝুমদ্বীপসহ অধিকাংশ নিম্মাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও কোমর পানি জমে যায়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। অধিংকাশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে গেছে। মানুষের রান্নাঘর, টয়লেটসহ বসতঘরেও পানি উঠে যাওয়ায় নিধারুন কষ্ঠের মধ্যে রয়েছে মানুষ। গ্রাম থেকে শহর এলাকা অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামের পাকা-আধাপাকা ও কাঁচা রাস্তাগুলোতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যানবাহন হিসেবে একমাত্র বাহন হয়ে পড়েছে নৌকা। জেলার অধিকাংশ মাছের খামার ভেসে গেছে। দীর্ঘমেয়াদী বন্যার কারণে জমাটবাঁধা পানিতে ছড়াচ্ছে রোগ জিবানু। মানুষ ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বন্যার্তরা সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েও পাচ্ছেনা।
গত দুইদিনে বেগমগঞ্জ উপজেলা ও সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বন্যার ভয়াবহ চিত্র। মানুষ অবর্ননী দুঃখ দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। অনেকস্থানে স্কুলে, স্কুলের আঙ্গিনায় পানি জমে গেলেও প্রশাসনের সেদিকে লক্ষ্য নেই।
তবে আশার কথা হলো প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা জেলার বন্যার কথা অস্বীকার করলেও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিপ্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করে তা ফেসবুকের মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারও করছেন।
বন্যার্তদের মাঝে প্রথমেই ত্রান সামগ্রী বিতরণ করে আলোচনায় আসেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। তিনি নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসন থেকে এমপি প্রার্থী। এরপরই বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ওই আসনের সংসদ সদস্য, বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোরশেদ আলম। এরপর একে একে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরণ, তাঁর পুত্র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য জিহান আল রশিদ সরকারি বরাদ্দের ও ব্যক্তিগতভাবে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

বৃহস্পতিবার চৌমুহনী পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বন্যার্তদের সহযোগীতা করেছেন। এ সময় বন্যার্তরা মেয়রের কাছে তাদের দুঃখ দুর্দশা তুলে ধরেন।
দক্ষিণ কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্তী বনিক জানান, বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলের চারদিকে সড়কে পানি উঠে গেছে। শিশুরা স্কুলে আসতে পারেনা। তিনি বন্যা পরবর্তী সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফরিদা খানম বলেন, প্রশাসন সব সময় অসহায়দের পাশে আছে। ইতিমধ্যে প্রতি ইউনিয়নে এক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারের কাছে আরো চাহিদার কথা বলা হয়েছে। বরাদ্দ আসলে যথাসময়ে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আসলে বন্যা নয়। অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নেমে গেলে কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। আর যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তত রয়েছে বলেও তিনি জানান।