আকাশবার্তা ডেস্ক :
বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে কূটনৈতিকদের হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়। এটি আগেও হয়েছে। কখনো তারা নিজে থেকে এগিয়ে এসে বলেছেন, আবার কখনো তাদের দাওয়াত দিয়ে আনা হয়েছে। তবে এখন এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) তিনি বলেন, নানা কারণে তারা হস্তক্ষেপ বা কথা বলার সুযোগ পান। এটি বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি বাড়িতে যাওয়া নিয়ে তোলপাড় চলছে। অথচ তিনি ওইদিন কারো বাড়িতে না গিয়ে বধ্যভূমিতে যেতে পারতেন কিংবা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে নিহত কোনো বুদ্ধিজীবীর স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারতেন।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল। নির্বাচনের ১১ দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ইয়াজউদ্দিন আহমদকে ইস্তাফা দিতে বাধ্য করেন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হন রাষ্ট্রপতি। এর পেছনে পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা ছিল পর্দার আড়ালে এবং সামনে থেকে। ২০০৬ সালের শেষ দিকে এবং ২০০৭ সালের প্রথম দিকে ঢাকায় নিযুক্ত পশ্চিমা দেশের কিছু কূটনৈতিক ছিলেন বেশ তৎপর।
এদের মধ্যে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া বিউটেনিস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী এবং ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রেনাটা লক ডেসালিয়ান ছিলেন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য তারা দফায়-দফায় খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও বিদেশিরা কথা বলেছিলেন। কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ দূতের প্রতিনিধি এসেছিলেন ঢাকায়। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিবও ঢাকায় এসেছিলেন। করেছিলেন একের পর এক বৈঠক।