আকাশবার্তা ডেস্ক :
সরকারি দলের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর এক প্রশ্নের জবাবে এই সংকটকালে পণ্য মজুদদারি ও কালোবাজারি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “আমাদের ব্যবসায়ী, যারা ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা করেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয় রোজা-উৎসব বা চাহিদার সময়ে তারা যে করে হোক দাম বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
“এটা আসলে অমানবিক। যারা মজুদদারি, কালোবাজারি, এলসি খোলা নিয়ে দুই নম্বরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি এবং নেব। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা আমরা নেব। মানুষের কষ্ট যেন না হয়, সেদিকে আমরা দৃষ্টি দেব।”
প্রধানমন্ত্রী পানি, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাসসহ সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। আরকে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রমজান মাসে যে পণ্যগুলো প্রয়োজন, তার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বে খাদ্যের দারুণ অভাব দেখা দেবে, যার কিছু আভাস আমরা পাচ্ছি। তবে আমাদের খাদ্য চাহিদা যেন আমাদের নিজেদের আওতায় রাখতে পারি সেই উদোগ আমরা নিয়েছি। আমি উৎপাদন বাড়াতে, কোনো জমি যাতে পড়ে না থাকে, যে যা পারে উৎপাদন করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। লক্ষ্য করা যাচ্ছে মানুষ সাড়া দিয়েছে।
সম্পূরক প্রশ্নে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, আজকাল যে অবস্থা! আজ কিন্তু ১/১১। এই ১/১১ এর ভয়ে কিন্তু আমরা অস্থির। এবং দেশের যা পরিস্থিতি। আমাদের বোঝার যে ক্ষমতা তাতে জানি, আমাদের দেশে প্রজ্ঞাবান নেতা আছেন, ওয়ান ইলেভেন আসবে না। তবুও আমার জিজ্ঞাসা, সবপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার লক্ষ্যে পা বাড়ানোর বোধহয় এখনই সময়। আপনি কী মনে করেন?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফখরুল ইমামকে না ঘাবড়ানোর পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারে যখন আছি, জনগণের জানমাল রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। এমন কোনও শক্তি এখনও তৈরি হয়নি বাংলাদেশে যে আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে পারে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখলকারী কোনও মিলিটারি ডিকটেকরের পকেট থেকে জন্ম নেয়নি। আওয়ামী লীগের জন্ম এদেশের মাটি ও মানুষ থেকে। কাজেই আমাদের শেকড় অনেক দূর পতিত আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইয়ুব খান, জিয়াউর রহমান, এইচ এম এরশাদ, খালেদা জিয়া সবাই আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। আর কোনও দিন পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ সালের অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুন, মানুষকে পুড়িয়ে মারা। সরকারি ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি নষ্ট করা। এমন কোনও অপকর্ম নেই যা করে সরকার হঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এতে জনগণের সায় তারা পায়নি। যারা নির্বাচনকে কলুষিত করেছে, নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছে, মানুষের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে, যারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে তারাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি নির্বাচন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলেই মানুষ ভোটটা শান্তিতে দিতে পারছে। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ করার দরকার নেই। জনগণ স্বতস্ফুর্তভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। কারণে তারা জানে-আওয়ামী লীগ যে ওয়াদা দেয় তা রাখে। আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি।