সোমবার ২রা মার্চ, ২০২৬ ইং ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ ইসরায়েলে ও যুক্তরাষ্ট্রে এমন হামলা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে ৯ দোকান ছাই, ৭৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাই নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ নির্বাচনে ভোটের বক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে, আশঙ্কা জেএসডি নেতার ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী-শবে বরাত জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে : ফজলুর রহমান লক্ষ্মীপুরে ৬ সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার : বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন যাদের জন্য দেশে আসতে পেরেছেন, তারা জুলাইয়ের অবদান অস্বীকার করছেন : ডা. শফিকুর রহমান

দুই মহিলা ভক্তকে ধর্ষণ: ধর্মগুরু রাম রহিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পনের বছর আগে দুই মহিলা ভক্তকে ধর্ষণ করার অপরাধে ভারতের জনপ্রিয় ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং-কে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিবিআইর বিশেষ আদালতের বিচারক জগদিপ সিং। ২০০২ সালে দুই স্বাধ্বীকে ধর্ষণের ১৫ বছর পর আজ তার সাজার রায় ঘোষণা করা হলো। খবর এনডিটিভি ও হিন্দুস্থান টাইমস।

স্থানীয় সময় দুপুর ২.৩০ মিনিটে রোহাতক শহরের ১০ কিলোমিটার দুরের সানোরিয়া কারাগারে শুরু হয় আদালতের কার্যক্রম। বিচারক উভয় পক্ষকে তাদের যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের জন্য ১০ মিনিট করে সময় দেন। শুরুতেই বিবাদী আইনজীবী গুরুমিতকে একজন সমাজ কর্মী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, যেহেতু তিনি মানুষের কল্যানের জন্য কাজ করেন তাই গুরুমিত বিচারকের সহানুভুতি পেতে পারেন।

সিবিআইর বিশেষ আদালতের বিচারক জগদিপ সিং ধর্ষণের দায়ে গুরুমিতকে দোষী বলে রায় ঘোষণা করেন। সোমবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে হেলিকপ্টারে করে বিচারক জগদিপ সিংকে রোহাতক জেলে উড়িয়ে আনা হয়। নিরাপত্তার সার্থে অন্য যেকোন শহর থেকে রোহাতক জেলে যাবার সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সহিংসতা প্রতিরোধে জেলের কাছাকাছি ২ হাজার ৩শ সেনা সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।

রায় উপলক্ষে হরিয়ানা ও অন্যান্য রাজ্যে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট) থেকে গুরুমিতকে রাখা হয়েছিল রোহতাকের বিশেষ কারাগারে। সোমবার সকাল থেকে রোহতাক ছিল কার্যত অবরুদ্ধ এক নগরী। রোহতা জেলে নেয়া হয়েছে পাঁচ স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রোহতাক পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা চালানোর চেষ্টা করা হলে গুলি চালানো হবে।

গত শুক্রবার (২৫ আগস্ট) গুরুমিতকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়া হয়েছিল হরিয়ানা রাজ্যের পাঁচকুলায়। রায় ঘোষণার সাথে সাথে ১০ হাজারের বেশি গুরুমিত ভক্ত ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা গাড়ি, বাস পুড়িয়ে দেয়, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে। এমনকি মিডিয়ার গাড়িও তাদের হামলা থেকে বাদ যায়নি। সহিংসতায় ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। পাঁচকুলাতে বিনষ্ট হয় কোটি টাকার সম্পত্তি। পরে ‍সহিংসতায় জড়িত থাকার দায়ে হরিয়ানাতে ৯শর বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়। গুরুমিতকে সাজার রায় দেওয়ার পর আবার যাতে সহিংসতা না ঘটে তাই পাঞ্জাব ও হরিয়ানা আদালত পুলিশকে রোহাতক জেলে আদালত বসিয়ে বিতর্কিত গুরুমিতের সাজার রায় দেওয়ার আদেশ দেন।

এর আগে রোহাতকের ডেপুটি কমিশনার অতুল কুমার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম প্রতিবেদকদের জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীকে প্রথমে একবার সতর্ক করে দেয়া হবে তাতে যদি কাজ না হয় তবে তাকে গুলির মুখোমুখি হতে হবে। রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে হরিয়ানার সব এবং পার্শ্ববর্তী পাঞ্জাবের কিছু এলাকার স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে, মোবাইল ফোন পরিষেবাও স্থগিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ রোহাতকের স্থানীয়দের নাগরিকদের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘর থেকে বের না হতে নির্দেশ দেয়।

নিরপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে রাম রহিমের ১৩০টি আস্তানায় তল্লাশি চালায় যেখান থেকে পুলিশ লাঠি, লোহার রড ও বোমা উদ্ধার করেছে। সিরসায় এক গাড়িতে পরিত্যাক্ত অবস্থায় দুটি একে ৪৭ এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত ঘোষণার রায়ের পর থেকে গুরুমিত রাম রহিমের ৩০ হাজার ভক্ত সিরসাতে অবস্থিত ১ হাজার একর আয়তনের প্রধান আশ্রম সাচ্চা সৌধের ভেতরে অবস্থান করছিলো। তারা সাজার রায় শোনার অপেক্ষায় ছিল এবং আশ্রম ত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গতকাল (২৭ আগস্ট) ১শ বাসে করে তাদের সবাইকে আশ্রম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন সিরসার প্রধান আশ্রম কয়েক শ সেনা এবং দাঙ্গা পুলিশ অবস্থান করছে। শনিবার (২৬ আগস্ট) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, যে বা যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে সহিংসতা করবে তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।

কে এই ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিম :
কথিত এই ধর্মগুরুর পুরো নাম গুরমিত রাম রহিম সিং (৫০)। সংক্ষেপে রাম রহিম নামেই পরিচিত। ১৯৬৭ সালের ১৫ আগস্ট রাজস্থানের গঙ্গানগর জেলার শ্রী গুরুসর মোদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন গ্রামের স্কুলেই। ব্যক্তিজীবনে রাম রহিম তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক। ভারতে যে ৩৬ জন ব্যক্তি জেড ক্যাটাগরির সুরক্ষা পান, রাম রহিম তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন।

রাম রহিমের জনপ্রিয়তা রয়েছে দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষের মধ্যে। রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপণের মতো কাজ করে থাকেন নিয়মিত। হাসপাতাল স্থাপন ও যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনের মতো কাজ করেন। ২০১০ সালে তিনি একটি গণবিবাহের আয়োজন করেন। সেখানে তাঁর এক হাজারের বেশি অনুসারী যৌনকর্মীদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ ধরনের কিছু কাজ করে তিনি নিজেকে সমাজসংস্কারক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর নিজস্ব ওয়েবসাইটে তাঁকে ‘আধ্যাত্মিক গুরু, মানবদরদি, বহুমুখী গায়ক ও বহুমুখী ক্রীড়াবিদ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বলা হয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ছাড়াও বিশ্বজুড়ে রাম রহিমের প্রায় ছয় কোটি ভক্ত রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে বেশ। সব সময় কেতাদুরস্ত হয়ে থাকতে পছন্দ করেন রাম রহিম। নানা ধরনের অলংকারও ব্যবহার করেন। প্রায় অর্ধ ডজন বাদ্যযন্ত্র বাজাতেও পারদর্শী তিনি। এ জন্য অনেকে তাঁকে ‘রকস্টার বাবা’ও বলে থাকেন।

রাম রহিমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। তাঁর বিরুদ্ধে মোট তিনটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ২০০২ সালে সিরসার এক সাংবাদিক রাম চন্দ্র ছত্রপতিকে খুনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই একই বছরে ডেরার ম্যানেজার রঞ্জিত সিংহকে খুনের অভিযোগও ওঠে। এ ছাড়া ২০০২ সালে ভারত সরকারের ফেডারেল পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত করে। রাম রহিম তিনটি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। সেগুলো হলো ‘এমএসজি: দ্য মেসেঞ্জার’, ‘এমএসজি ২: দ্য মেসেঞ্জার’ এবং ‘এমএসজি: দ্য ওয়ারিয়র লায়ন হার্ট’।

 

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১