সমুদ্রের মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় মোকা।
রবিবার (১৪ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন সাচকিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। স্থলভাগে আঘাত করার সময় ঘূর্ণিঝড়টি প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হচ্ছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও মিয়ানমারের মংড়ু জেলার মধ্যবর্তী স্থানের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় মোকার কেন্দ্র অতিক্রম শুরুর পর পরই সমুদ্রে ভাটা শুরু হয়।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৮ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ (১৪ মে) সকাল ছয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিলো। কক্সবাজার ও উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে মোকা। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ মিয়ানমারের সিত্তে শহরের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে।

চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও তার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে প্রতি ৫-১০ বছরে একটিই মাত্র সুপার সাইক্লোন সৃষ্টি হয়। যদিও এবার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তিন বছরে পর (চলতি বছর মে মাসে) সুপার সাইক্লোন মোকা সৃষ্টি হয়েছে।