মঙ্গলবার ১০ই মার্চ, ২০২৬ ইং ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষের ঘটনা : পুলিশের দাবী গুলিতে নয়, যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির পদযাত্রা ও আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাথে আওয়ামীলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় কৃষক দল নেতা নিহতের ঘটনাকে অস্বীকার করেছে পুলিশ। পৃথক হামলায় নিহতের এ ঘটনাটিকে পুলিশের গুলিতে নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরধরে ৩/৪জন যুবক কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবী করছে জেলা পুলিশ সুপার। নিহত ব্যক্তি কৃষকদলের সদস্য বা নেতা নয় বলেও দাবী পুলিশের।

বুধবার (১৯ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। এসময় তিনি সংঘর্ষের ঘটনার নানান কারণসহ নিহত হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করেন।

এদিকে একই ঘটনায় রাতে জেলা বিএনপি আহুত সংবাদ সম্মেলনে নিহত ব্যক্তিকে কৃষকদলের চরশাহী ইউনিয়ন কমিটির সদস্য বলে দাবী করেন। তার নাম মো. সজীব। সে চরশাহী ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। দুপুর ১টার দিকে শহরের শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বাসভবনের সামনে নিহতের গায়েবী জানাজার আয়োজন করেও বিএনপি একই দাবী করেন। দলীয় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন বলে জানান এ্যানি চৌধুরী।

তবে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে হত্যাকান্ডের বিষয়টি বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের হিসেবে ঘটেছে বলে দাবী করেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী।

অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রথমে জেলা যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিম লিটন নিহত সজীবকে চরশাহী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দাবী করেন। একই সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি নিহত সজীবকে চন্দ্রগঞ্জ থানা কৃষক দলের সদস্য দাবী করেন।

সজীবের দলীয় পরিচয় বিএনপির পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবী করা প্রসঙ্গে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ধন্যপুর ওয়ার্ডের সদস্য (বিএনপি সমর্থিত মেম্বার) কফিল উদ্দিন জানিয়েছেন, সজীবের বাড়ি চরশাহীতে নয়। তার বাড়ি চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামে। তার বাড়ির পাশেই বাড়ি সজীবের। কফিল উদ্দিন আরো জানান, সজীব পেশায় একজন টাইলস মেস্ত্রী, সে ঢাকায় টাইলসের কাজ করে। গত কয়েকদিন আগেই সজীব ঢাকা থেকে বাড়িতে আসছে পিকআপের ড্রাইভিং শেখার জন্য। তবে সজীব বিএনপি সমর্থক এটা সত্য কিন্তু সে রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত নয় বলে দাবী করেন কফিল উদ্দিন মেম্বার।

এদিকে সংঘর্ষ ও হতাহত এবং নাশকতার ঘটনায় বিএনপি, পুলিশ ও আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে নিহতের নানা হানিফ মিয়া তার নাতি হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করেছেন।

প্রসঙ্গত; মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির পদযাত্রা ও আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় বিএনপির সাথে আওয়ামীলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এতে পুলিশের ১৬জনসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

মার্চ ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১