মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ:
গণমাধ্যম সপ্তাহের স্বীকৃতিসহ সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি, কর্মসূচি ঘোষণা লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল :   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই যোদ্ধা ফোর্সের সংঘর্ষ : পুলিশসহ আহত ১০ চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন মনির আহম্মদ রাজন কফিলউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ঈদের আগে অস্থির মুরগির বাজার, সবজিতে স্বস্তি আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা ফ্লাইট বাতিলে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সহায়তা করবে সরকার চন্দ্রগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার চন্দ্রগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়ার মাহফিল ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতের নির্দেশ

লক্ষ্মীপুরে রহমতখালীতে ভাটার টানে ভাঙছে গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গেল আগস্ট মাস জুড়ে টানাবৃষ্টি আর জোয়ারের পানি জমে লক্ষ্মীপুরের রহমতখালী নদীর ১৬ কিলোমিটার এলাকায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে রহমতখালীতে চলছে ভাটার টান। ফলে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি নেমে ভাঙছে গ্রামের পর গ্রাম। ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা রহমতখালী এলাকার পাড়া, মহল্লা ও জনপদ। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট সুইজ গেইটের পূর্বপাড় থেকে টুমচর, কালিরচর ও ভবানীগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকার পানি কমতে থাকায় বর্তমানে গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে নতুন এক আতংক। নদীকূলে বসবাসরত ৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ ছুটছেন শহরে আবার কেউ রাস্তার পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে বহু ঘরবাড়ি, হাট-বাজারসহ গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা।

কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট সুইজ গেইটের পূর্বপাড় থেকে জুগীরহাট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় রহমতখালী নদীর দু-পাড়ে প্রতিনিয়ত ভাঙছে। তবে কালিরচর, টুমচর, ভবানীগঞ্জ ও জগৎবেড়ী এলাকায় প্রতিবছর পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে এমন অবস্থা সৃষ্টি হলেও এ বছর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের মুখে পড়ে নদীপাড়ের অনেককে নিজেদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেয়াসহ গাছপালা কেটে নিতে দেখা গেছে। ইতোমধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অনেকে।

স্থানীয়রা বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এতে করে স্থানীয় কালিরচর বাজার, ইলির গোজা, জল্লাদের কেয়া, চররমনী মোহন এলাকাসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন হুমকির মুখে রয়েছে। নি¤œ আয়ের ভুক্তভোগী এসব বাসিন্দারা সরকারি সহায়তার দাবিও জানান। আবার কেউ কেউ বলছেন, মজুচৌধুরীর হাট এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে নদীর মাঝখানে পলি জমে চর জেগে উঠেছে। এতে করে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে তীব্র ¯্রােতে নদীর দুই পাড় ভাঙছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ইয়ার আলী বলেন, রহমতখালী নদীর ১৬ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর পানি এ নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। ৬০ এর দশকে এখানে একটি রেগুলেটর ও পরে আরেকটি রেগুলেটর স্থাপন করা হয়। কিন্তু একই জায়গা দিয়ে বেশি পরিমাণ পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে ভাঙন শুরু হয়। এছাড়া রহমতখালী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পলি জমে চর জেগে উঠায় ঠিক মতো পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে মাটি কাটা কিংবা বালু উত্তোলন করতে না পারায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এবং কিছু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এ দিকে ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম বলেন, ভাঙ্গন রোধে এ মুহূর্তে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা দরকার। এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করাসহ ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২৬
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মার্চ    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০