আকাশবার্তা ডেস্ক :
হাজারীবাগের ধকল কাটিয়ে ধীরে ধীরে যাত্রা শুরু করেছে ট্যানারি শিল্পের নতুন ঠিকানা সাভারের চামড়া শিল্প নগরী। তবে দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। ঠিকমত গ্যাসসংযোগ না পাওয়ায় অনেক কারাখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। ফলে চামড়া রপ্তানি থমকে যাওয়ার ভয় করছে অনেকেই। জানাগেছে, ১৫৪টি ট্যানারির মধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে ৫৫টির। মাত্র ৮/১০টি কারখানা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। আরও ২৫/৩০ ট্যানারি শুধুমাত্র ওয়েট ব্লু’র কাজ করতে পারে। অন্যদিকে গ্যাস সংযোগ না পাওয়া ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চামড়া প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজ শুরু করলেও গ্যাসের অভাবে ফিনিশিংয়ের কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে থমকে আছে রপ্তানি। এতে কোটি কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশে সারাবছর যে পরিমাণ চামড়ার জোগান আসে, এর ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ আসে কোরবানির ঈদে। এ সময় দেশে প্রায় ৬০ লাখ গরু-মহিষ জবাই হয়। এ ছাড়া কোটি খানেক ছাগল-ভেড়ার চামড়া পাওয়া যায়। কিন্তু এত পরিমাণে চামড়া প্রক্রিয়াকরণ করতে এখনও প্রস্তুত হয়ে ওঠেনি সাভারের চামড়াশিল্পনগরী। সেখানে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ কারখানা চালু হলেও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা রয়েছে মাত্র আটটি ট্যানারির। এতে কোরবানির চামড়া নিয়ে বিপাকে আছে ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে, সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করলেও সেখানে দুর্বল অবকাঠামোর ফলে ট্যানারির কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, এ শিল্পের সমস্যার মূলে যেমন ট্যানারি মালিকরা রয়েছেন তেমনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) রয়েছে। সবচেয়ে বড় গাফলতি বিসিকের। ক্ষোভ প্রকাশ করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আপনি যান সেই সাভার শিল্প নগরীতে? গিয়ে দেখেন কী করুণ অবস্থা? ড্রেনের অবস্থা দেখেন? রাস্তা ঘাটের অবস্থা দেখেন? ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্টের অবস্থা দেখেন? চামড়া পরিস্কার করার পর যে আবর্জনা থাকে সেগুলোর অবস্থা দেখেন? দেখলে আপনারা বুঝতে পারবে সাভারে কত অসুবিধায় রয়েছি।
তিনি বলেন, ট্যানারি শুধু তৈরি করলেই হবে না পাশাপাশি আমার সমস্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো দিতে হবে। সরকার আন্তরিক এবং ট্যানারি স্থানান্তর সম্পন্ন করতে চামড়া শিল্প উদ্যোক্তা সংগঠন ও সরকার যৌথভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালকে ‘চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এবছর প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, যেভাবে লবণের দাম বেড়েছে এতে প্রত্যেক চামড়ার পেছনে ৩শ থেকে ৪শ টাকা খরচ পড়বে। এখানে চামড়া শিল্প মালিকদের দাবি- বিসিকের মাধ্যমে চামড়া শিল্পের লবণ আমদানি করা হোক, সঠিক সময়ে লবণ দেয়া হোক।
জানা গেছে, ২০০৩ সালে শুরু হয়ে ২০০৬ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত ১৪ বছরে কাজ শেষ হয়নি। পুরো কাজ শেষ হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। অথচ মিথ্যা রিপোর্টের ওপর আদালতের রায়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হলো। এর আগে রায় না মানার কারণে আদালত জরিমানাও করে ট্যানারি মালিকদের। এখন দেখা যাচ্ছে কাজ শেষ হয়নি এক তৃতীয়াংশও। এতে করে কোটি কোটি টাকার রফতানি অর্ডার হারালো ট্যানারি মালিকরা। বেকার হলো কয়েক লাখ শ্রমিক। কিন্তু কার স্বার্থে এ শিল্প ধ্বংস করা হলো তা এখনও অজানা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।