আকাশবার্তা ডেস্ক :
রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তার নতুন দল গড়ার যে কথা বাজারে আছে, তা ‘সঠিক নয়’। বিএনপি থেকেই তিনি অবসরে যেতে চান। বুধবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই জানিয়ে তিনি বলেন, আমি অন্য দল গঠন করতে যাচ্ছি তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সঠিক নয়। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। গত কয়েক মাস সিএমএইচ ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়েছি। আবারও সিঙ্গাপুর যাবো। শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। বিএনপির রাজনীতি থেকেও অনেকটা দূরে আছি। ৩১ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করছি। অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি জানান, ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। সেই সময় শওকত মাহমুদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না, এখনও নেই। অথচ আমাকে এসব অভিযোগে অভিযুক্ত হই, এসব মেনে নিতে পারিনা। আমি সেসময় আমি আমার বক্তব্য তুলে ধরি।
পদ-পদবীর জন্য রাজনীতি করিনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৩ বছর ধরে আমি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। স্থায়ী কমিটির দুই জন ছাড়া সবাই আমার নিচে ছিল, এখন সবাই ওপরে উঠেছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানাবো।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেই কর্মরত ছিলেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এরপর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।